ছবি: Moheen Reeyad, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

ভ্রমণের প্রস্তুতি

সিলেট বিভাগ ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য

পড়তে ১৪ মিনিট · হালনাগাদ ২০ অক্টো, ২০২৬

মাসভিত্তিক আবহাওয়া, টাকা-পয়সা, সিম কার্ড, ভাষা, আদবকায়দা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, ছুটি আর ভিসা: সিলেট বিভাগে যাওয়ার আগে যা জানা দরকার।

এই অধ্যায়ে
  1. ঋতুভেদে আবহাওয়া ও সঙ্গে কী নেবেন
  2. টাকা-পয়সা ও লেনদেন
  3. ফোন, ইন্টারনেট ও ভাষা
  4. পোশাক, আদবকায়দা ও ছবি তোলা
  5. সুস্থ থাকা
  6. নিরাপদ থাকা
  7. ছুটির দিন, উৎসব ও সপ্তাহান্ত
  8. পরিবার, প্রবীণ ও চলাফেরায় সীমাবদ্ধ ভ্রমণকারী
  9. দায়িত্বশীল ভ্রমণ
  10. বিদেশি পর্যটকদের ভিসা ও কাগজপত্র

সামান্য প্রস্তুতি নিলে সিলেট ভ্রমণ অনেক সহজ হয়। জানুয়ারিতে যে নদী পাথরের ওপর দিয়ে অগভীর আর স্বচ্ছ বয়ে যায়, জুনে পাহাড়ে ঝড়বৃষ্টির পর কয়েক ঘণ্টায় তা ফুলে উঠতে পারে; যে মাজার সবার জন্য খোলা, সেখানেও শালীন পোশাকে যাওয়াই রীতি; আর একটি ঈদের ছুটিতেই একটি নদীতীরে কয়েক লাখ মানুষ আসতে পারেন। ভ্রমণ সহজ করার ব্যবহারিক তথ্যগুলো এই অধ্যায়ে একসঙ্গে রাখা হলো।

বিমান, ট্রেন, বাস আর নৌকার জন্য দেখুন সিলেটে যাওয়া ও বিভাগজুড়ে ঘোরাফেরা; এক নজরে প্রতিটি মাসের হালচাল জানতে দেখুন কখন যাবেন।

ঋতুভেদে আবহাওয়া ও সঙ্গে কী নেবেন

সিলেটের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি, আর এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল এলাকাগুলোর একটি। ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় হিসাবে সিলেট শহরে বছরে প্রায় ৪,০০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, যার প্রায় সবটাই এপ্রিল থেকে অক্টোবরে; অথচ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি প্রায় শুকনো।

শীত: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি

শুকনো মৌসুমেই ভ্রমণ সবচেয়ে সহজ। দিনের তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি, ডিসেম্বর-জানুয়ারির রাতে নামে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রির কাছাকাছি, ভোরে পানির ওপর আরও ঠান্ডা। নদী তখন অগভীর ও স্বচ্ছ, হাওর ছোট হয়ে আসে আর পরিযায়ী পাখিতে ভরে যায়, বনের পথও শুকনো। সূর্যোদয়ের নৌভ্রমণের জন্য হালকা জ্যাকেট, পাথুরে নদীর রোদের ঝলকের জন্য সানস্ক্রিন ও সানগ্লাস, আর মাজারে মাথা ঢাকার কাজেও লাগে এমন একটি শাল বা ওড়না নিন।

প্রাক্-বর্ষা: মার্চ থেকে মে

মার্চ থেকে গরম বাড়ে, ঝড়ও শুরু হয়। গড় বৃষ্টি মার্চের প্রায় ১২৭ মিলিমিটার থেকে এপ্রিলে ৩৮২ আর মে মাসে ৫৯০ মিলিমিটারে ওঠে, যার বড় অংশ আসে বিকেল বা সন্ধ্যার স্বল্পস্থায়ী প্রচণ্ড বজ্রঝড়ে। চা-গাছে নতুন পাতা আসে, আর মে মাস নাগাদ পাহাড়ের কাছে আকস্মিক ঢলের আশঙ্কা থাকে। কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা ঢিলেঢালা সুতি কাপড়, খাবার স্যালাইন আর ভাঁজ করে রাখা যায় এমন রেইনকোট নিন।

বর্ষা: জুন থেকে সেপ্টেম্বর

জুন সবচেয়ে বৃষ্টির মাস, মোটামুটি ২৬ দিনে প্রায় ৮০০ মিলিমিটার, সাধারণত প্রবল ঝাপটায়, মাঝে মাঝে আকাশ খোলে। রাতারগুলের ডুবন্ত বন, ভরা ঝরনা আর টাঙ্গুয়ার হাওরে ভরা পানির এটাই মৌসুম, আবার বন্যারও। ২০২২ সালের জুনে বন্যার পানিতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আর সিলেট রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, আর ২০২৪ সালের আগস্টে ফুলে ওঠা খোয়াই নদীর পানি শায়েস্তাগঞ্জের কাছে একটি রেলসেতুতে পৌঁছালে তিন দিন ঢাকা–সিলেট ট্রেন বন্ধ ছিল। দ্রুত শুকায় এমন কাপড়, গ্রিপওয়ালা স্যান্ডেল, হালকা রেইনকোট আর ফোনের জন্য ড্রাই ব্যাগ নিন। কোথায় পানির রূপ সবচেয়ে ভালো, তা দেখাবে বর্ষার গাইড।

শরৎ: অক্টোবর

অক্টোবরে বৃষ্টি নেমে আসে মোটামুটি ১০ দিনে প্রায় ২০০ মিলিমিটারে, আকাশ পরিষ্কার হয়, অথচ হাওর তখনও ভরা; তাই প্রথমবার যাওয়ার জন্য অক্টোবর বছরের অন্যতম সেরা মাস। নভেম্বর নাগাদ পানি দ্রুত নামে আর স্বচ্ছ নদীর মৌসুম শুরু হয়; সেখান থেকে বাকি গল্প শীতের গাইডে।

শ্রীমঙ্গলের আশপাশের চা-বাগান। সিলেট শহরে বছরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বৃষ্টি ঝরে জুন থেকে সেপ্টেম্বরে, আর তখন টিলার ওপর প্রায়ই নিচু মেঘ জমে থাকে।
শ্রীমঙ্গলের আশপাশের চা-বাগান। সিলেট শহরে বছরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বৃষ্টি ঝরে জুন থেকে সেপ্টেম্বরে, আর তখন টিলার ওপর প্রায়ই নিচু মেঘ জমে থাকে। ছবি: Ifsanjry, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

টাকা-পয়সা ও লেনদেন

মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা (BDT), লেখা হয় ৳ বা Tk; নিত্যদিনের ব্যবহারে ২ টাকা থেকে ১,০০০ টাকার নোট চলে। ২০২৫ সালের জুন থেকে নতুন নকশার নোট বাজারে আসছে, তাই পুরোনো আর নতুন নোট পাশাপাশি দেখবেন।

ভ্রমণের বেশির ভাগ খরচ এখনো নগদে চলে। মাঝি, সিএনজিচালক, চায়ের দোকান, টিকিট কাউন্টার আর গ্রামের গাইড সবাই টাকা চান, প্রায়ই খুচরা নোটে, আর ব্যস্ত ঘাটে ১,০০০ টাকার ভাংতি খুব কম জনের কাছেই থাকে। সিলেট শহর ও জেলা শহরগুলোতে এটিএম প্রচুর, কিন্তু সীমান্তঘেঁষা উপজেলায় কম, তাই দিনের ভ্রমণে বের হওয়ার আগেই টাকা তুলে নিন।

মোবাইল আর্থিক সেবা সব জায়গায় চলে। ২০১১ সালে চালু হওয়া, ব্র্যাক ব্যাংকের মালিকানাধীন বিকাশের যাচাইকৃত গ্রাহক আট কোটির বেশি, আরেকটি বড় নাম নগদ; দোকানে সাধারণত পেমেন্টের নম্বর বা কিউআর কোড টাঙানো থাকে। অ্যাকাউন্ট নিবন্ধিত বাংলাদেশি মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত, তাই অনেক বিদেশি পর্যটকের জন্য নগদে দেওয়া, অথবা যাঁর কাছে উঠেছেন তাঁকে দিয়ে পরিশোধ করিয়ে পরে টাকা মিটিয়ে দেওয়াই সহজ। সিলেট শহর ও শ্রীমঙ্গলের বড় হোটেল, রিসোর্ট আর কিছু রেস্তোরাঁয় আন্তর্জাতিক কার্ড চলে, অন্যত্র কদাচিৎ।

২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট মূল টাকা থেকে আলাদা পকেটে রাখুন। মাঝি বা চায়ের দোকানে দাম মেটানো দ্রুত হয়, আর ভিড়ের মধ্যে মোটা মানিব্যাগ খুলতে হয় না।

বিভাগের অন্য জায়গার মতো শ্রীমঙ্গলেও রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে কার্ড নয়, চলে নগদ আর খুচরা নোট।
বিভাগের অন্য জায়গার মতো শ্রীমঙ্গলেও রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে কার্ড নয়, চলে নগদ আর খুচরা নোট। ছবি: Kritzolina, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

ফোন, ইন্টারনেট ও ভাষা

বিভাগজুড়ে চারটি অপারেটরের নেটওয়ার্ক আছে: সবচেয়ে বড় গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক আর রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক। ২০১৫ সাল থেকে চালু ব্যবস্থায় প্রতিটি সিম মালিকের নামে নিবন্ধন করতে হয়। বাংলাদেশিরা জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করেন; বিদেশিরা পাসপোর্ট ও ভিসা দিয়ে নিবন্ধন করেন। ঢাকা বিমানবন্দরে প্রতিটি অপারেটরের বিক্রয়কেন্দ্র আছে, সিলেট শহরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারেও সিম মেলে। সীমান্তের কাছে ডেটা দুর্বল হয়, চা-বাগান আর হাওরে অনিয়মিত হতে পারে, তাই আগেই অফলাইন ম্যাপ নামিয়ে রাখুন।

সিলেটি, বাংলা ও ইংরেজি

বাংলা রাষ্ট্রভাষা, সাইনবোর্ড, স্কুল আর দপ্তরের ভাষাও বাংলা। তবে ঘরে আর বাজারে বেশির ভাগ মানুষ বলেন সিলেটি, যার মাতৃভাষী প্রায় এক কোটি, আর প্রমিত বাংলা থেকে এত আলাদা যে অনেক ভাষাবিদ একে আলাদা ভাষা মনে করেন, যদিও অনেকে একে বাংলার উপভাষা হিসেবেই দেখেন। এর নিজস্ব ঐতিহাসিক লিপিও আছে, সিলেটি নাগরী। দেশের অন্য জায়গা থেকে আসা অতিথির সঙ্গে মানুষ সহজেই প্রমিত বাংলায় কথা বলেন।

হোটেল, এয়ারলাইনের অফিসে আর তরুণদের অনেকের মুখে ইংরেজি চলে, আর ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের বেশির ভাগের (১৯৮৬ সালের এক হিসাবে প্রায় ৯৫ শতাংশ) শিকড় এই অঞ্চলে হওয়ায় বহু পরিবারে যুক্তরাজ্যে বড় হওয়া আত্মীয় আছেন। শহরের বাইরে কয়েকটি বাংলা শব্দ জানা থাকলে অনেক কাজ সহজ হয়।

  • আসসালামু আলাইকুম: মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত সম্ভাষণ, উত্তরে ওয়ালাইকুম আসসালাম। হিন্দুদের সঙ্গে নমস্কার।
  • কেমন আছেন (প্রমিত), আফনে বালা আছইন নি (সিলেটি): আপনি কেমন আছেন।
  • ধন্যবাদ: কৃতজ্ঞতা জানানোর শব্দ, তবে প্রায়ই একটু হাসিই একই কাজ করে।
  • কত টাকা: দাম কত।
  • কী (প্রমিত), কিতা (সিলেটি): কী।
  • ভাই ও আপা: অচেনা পুরুষ বা নারীকে সম্বোধনের ভদ্র উপায়।

পোশাক, আদবকায়দা ও ছবি তোলা

সিলেট মূলত মুসলিমপ্রধান ও কিছুটা রক্ষণশীল অঞ্চল, যেখানে হিন্দু সম্প্রদায় আর পাহাড়ের ধারে খাসিয়া, মণিপুরিসহ নানা জনগোষ্ঠীর বাস। কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা ঢিলেঢালা পোশাক সব জায়গায় মানানসই; রিসোর্টের বাইরে হাফপ্যান্ট বা হাতাকাটা জামা মানুষের দৃষ্টি কাড়ে। নারীদের জন্য লম্বা কামিজ বা টিউনিক আর পায়জামা সবচেয়ে স্বস্তির, সঙ্গে মাজার ও মসজিদের জন্য একটি ওড়না।

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে অন্যরা যেখানে জুতা খোলেন সেখানে খুলুন, মাথা ঢাকুন আর নিচু স্বরে কথা বলুন। ২০২৩ সাল থেকে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার কর্তৃপক্ষ হাফপ্যান্ট পরে ফটক দিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ করেছে। মূল চত্বরের কাছে নারীদের জন্য আলাদা জায়গা আছে, আর শাহজালাল (রহ.)-এর কবরের সিঁড়িতে শুধু পুরুষেরা ওঠেন। নামাজরত মানুষকে পথ ছেড়ে দিন, আর নিজে নামাজ না পড়লে জুমার নামাজের সময় মসজিদে ঢুকবেন না। এসব রীতি জানতে দেখুন মাজার ও পবিত্র স্থান অধ্যায়।

চা-বাগান চালু খামার, আর সেখানে কাজ করা পরিবারগুলোর বাসস্থানও: বাগানের রাস্তায় থাকুন, আমন্ত্রণ ছাড়া শ্রমিকদের বসতিতে ঢুকবেন না, আর পাতা তোলা শ্রমিকদের ছবি তোলার আগে জিজ্ঞেস করুন। জাফলংয়ের কাছের আর লাউয়াছড়ার ভেতরের খাসিয়া গ্রামে বাড়িঘর ও বাগান ব্যক্তিগত সম্পত্তি, তাই স্থানীয় গাইডের সঙ্গে যান।

আগে জিজ্ঞেস করলে বেশির ভাগ মানুষ ছবি তুলতে দেন, অনেকে বদলে আপনার সঙ্গে সেলফিও চাইবেন। নারী, শিশু আর নামাজরত মানুষের ছবি তোলার আগে অবশ্যই অনুমতি নিন। বিজিবি চৌকি, সেনাসদস্য বা সীমান্তের কাঁটাতারের ছবি কখনো তুলবেন না, আর কোনো কর্মকর্তা বললে ক্যামেরা সরিয়ে রাখুন।

রমজান

রমজানে দিনের বেলা অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকে বা পর্দা টেনে রাখে, আর সূর্যাস্তে ইফতারের সময় ভরে ওঠে; রোজা না রাখলে প্রকাশ্যে আড়াল রেখে খাওয়াদাওয়া করুন। ২০২৬ সালে রমজান শেষ হয়েছিল ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরে, আর ২০২৭ সালে এটি মোটামুটি ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা।

শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে অন্যরা যেখানে জুতা খোলেন, দর্শনার্থীরাও সেখানে জুতা খুলে রাখেন আর নিচু স্বরে কথা বলেন; ২০২৩ সাল থেকে হাফপ্যান্ট পরে ফটক দিয়ে ঢোকা নিষেধ।
শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে অন্যরা যেখানে জুতা খোলেন, দর্শনার্থীরাও সেখানে জুতা খুলে রাখেন আর নিচু স্বরে কথা বলেন; ২০২৩ সাল থেকে হাফপ্যান্ট পরে ফটক দিয়ে ঢোকা নিষেধ। ছবি: Rafidh Hasan Arnab, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

সুস্থ থাকা

  • পানি: বোতলজাত বা ঠিকমতো ফিল্টার করা পানি পান করুন, আর বোতলের সিল অক্ষত কি না দেখে নিন। সদ্য ফোটানো চা নিরাপদ; রাস্তার দোকানের বরফ নাও হতে পারে।
  • খাবার: যেখানে গরম গরম রান্না হয় আর ভিড় থাকে সেখানে খান, ফল নিজে ছিলে নিন।
  • ডেঙ্গু: দিনের বেলা কামড়ানো মশাবাহিত এই রোগ বর্ষায় বাড়ে। ২০২৬ সালের আগস্টের শুরু পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১১১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন, অর্থাৎ ঝুঁকি কম হলেও আছে। সন্ধ্যার পাশাপাশি দিনেও মশা তাড়ানোর লোশন লাগান, আর বেশি জ্বর হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
  • জোঁক: বর্ষায় বনের পথে প্রচুর থাকে, হামহাম যাওয়ার পথে আর লাউয়াছড়ার ট্রেইলেও। প্যান্ট লম্বা মোজার ভেতরে গুঁজে দিন আর প্রতিটি বিরতিতে পা দেখে নিন; কামড়ের জায়গা থেকে কিছুক্ষণ রক্ত পড়ে, তবে সাধারণত এর বেশি ক্ষতি হয় না।
  • গরম: মার্চ থেকে অক্টোবর সকাল সকাল বের হোন, দুপুরে বিশ্রাম নিন, টুপি পরুন আর খাবার স্যালাইন সঙ্গে রাখুন, যা সব ফার্মেসিতে মেলে।
  • নৌকা: খোলা হাওরে বাতাসে হাউসবোট দোলে। নৌযাত্রায় অসুস্থ বোধ করার প্রবণতা থাকলে ওঠার আগে ওষুধ খান আর নৌকার মাঝামাঝি নিচু জায়গায় বসুন।

প্রতিটি বাজারেই ফার্মেসি আছে, তবে নিয়মিত যে ওষুধ লাগে তা আসল মোড়কে সঙ্গে আনুন। প্রধান সরকারি হাসপাতাল সিলেট শহরের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে বিভাগের ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা হয়। প্রতিটি জেলা শহরে সরকারি সদর হাসপাতাল আছে, যেমন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল, আর সিলেট শহরে আছে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ক্লিনিক।

নিরাপদ থাকা

সিলেট অতিথিপরায়ণ জায়গা, আর এখানে বড় ঝুঁকি অপরাধ নয়, বরং রাস্তা আর পানির রোজকার ঝুঁকি। বেশির ভাগ মহাসড়ক দুই লেনের, যেখানে কোচ, ট্রাক, সিএনজি আর সাইকেল একসঙ্গে চলে, আর ওভারটেকিং বেপরোয়া: যতটা সম্ভব দিনের আলোয় চলুন আর অস্বস্তি লাগলে চালককে গতি কমাতে বলুন।

নদী, নৌকা ও পাহাড়ি ঢল

পাহাড় থেকে নেমে আসার জায়গায় স্বচ্ছ নদীগুলোর স্রোত প্রবল, আর মাইকে বারবার সতর্ক করার পরও জাফলংয়ে গোসল করতে নেমে পর্যটক ডুবে মারা গেছেন। ২০১৪ সাল থেকে জাফলংয়ে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ; অন্য জায়গায় শুধু সেখানেই সাঁতার কাটুন যেখানে স্থানীয়রা কাটেন, কখনো একা নয়, ভারী বৃষ্টির পর নয়। যেকোনো নৌকায় লাইফ জ্যাকেট পরুন, আর প্রতিটি শিশুর জন্য একটি চেয়ে নিন; টাঙ্গুয়ার হাওরে জেলা প্রশাসনের নিয়মে প্রতিটি নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা বাধ্যতামূলক।

মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাহাড়ি নদী বেয়ে পানি নেমে আসে। বর্ষায় বিছনাকান্দি, পান্থুমাই, সাদা পাথর বা জাফলং যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আর স্থানীয় খবর দেখে নিন, আর পানি ঘোলা হতে বা বাড়তে শুরু করলেই নদীর বুক ছেড়ে উঠে আসুন। ভরা বর্ষায় সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুরের সড়ক পানিতে ডুবে যেতে পারে।

সীমান্ত

জাফলং, বিছনাকান্দি ও লালাখালে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত পর্যটকদের যাতায়াতের জায়গার খুব কাছে। শূন্যরেখা নিয়ন্ত্রণ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি): বাংলাদেশের অংশে থাকুন, বিজিবির নির্দেশ মেনে চলুন, আর অন্যরা গেলেও সীমানা-চিহ্ন পেরোবেন না। জাফলংয়ের দোকানে প্রকাশ্যে ভারতীয় পণ্য বিক্রি হয়, কিন্তু সিলেট–তামাবিল মহাসড়কের পুলিশ চেকপোস্টে শুল্ক ছাড়া আনা পণ্য জব্দ করা হতে পারে, আর ক্রেতারা জানিয়েছেন, দোকানের রসিদ থাকলেও পণ্য জব্দ হয়েছে।

হরতাল, বাড়তি দাম আদায় ও দালাল

বাংলাদেশে হরতাল, অর্থাৎ দোকানপাট ও অফিস বন্ধ রাখার সাধারণ ধর্মঘট, আর সড়ক অবরোধ এখনো মাঝে মাঝে হয়। এমন কিছু ডাকা হলে যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন, জটলা এড়িয়ে চলুন আর হোটেলের পরামর্শ মেনে চলুন।

বাড়তি ভাড়াই সবচেয়ে চেনা বিরক্তি, সবচেয়ে বেশি ছুটির সময় আর রাতারগুলের মতো ব্যস্ত ঘাটে। নৌকা, সিএনজি বা গাড়ি, রওনার আগেই ভাড়া ঠিক করুন, আসা-যাওয়া কি না আর মাঝি কতক্ষণ অপেক্ষা করবেন তাসহ, আর টাকা দিন শেষে। নৌকা আর ট্যুর প্রতিষ্ঠিত, নিবন্ধিত অপারেটরের মাধ্যমে বুক করুন, আর শুধু একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ দেখে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অগ্রিম পাঠাবেন না।

ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জরুরি সহায়তা

ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি সিলেট রিজিয়ন আছে। ২০২৫ সালে জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মাধবকুণ্ড ও টাঙ্গুয়ার হাওরে তাদের ক্যাম্প ছিল, আর ২০২৬ সালে তাদের ওয়েবসাইটে সিলেট, জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মাধবকুণ্ড ও সুনামগঞ্জ জোনের নাম দেওয়া আছে। হারানো জিনিস, বিবাদ বা পথনির্দেশে তারা সাহায্য করতে পারে। যেকোনো জরুরি অবস্থায় ফোন করুন ৯৯৯ নম্বরে।

জাফলংয়ে নৌকা পর্যটকদের পিয়াইন নদী পার করায়; শীতে নদী শান্ত দেখালেও পাহাড়ে বৃষ্টির পর স্রোত তীব্র হয়।
জাফলংয়ে নৌকা পর্যটকদের পিয়াইন নদী পার করায়; শীতে নদী শান্ত দেখালেও পাহাড়ে বৃষ্টির পর স্রোত তীব্র হয়। ছবি: Koniiica, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

ছুটির দিন, উৎসব ও সপ্তাহান্ত

বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার, আর প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে সবচেয়ে ভিড় হয় শুক্রবারে ও সরকারি ছুটির প্রথম দিনগুলোতে। ২০২৬ সালের জন্য সরকার ২৮ দিনের ছুটি অনুমোদন করেছে, যার কয়েকটি একসঙ্গে মিলে লম্বা ছুটি তৈরি করে।

দুই ঈদই বছরের সবচেয়ে বড় ভ্রমণ মৌসুম। ঢাকা ফাঁকা করে মানুষ গ্রামের পথে যান, তারপর ছুটির বাকি দিনগুলোতে ভরে ওঠে পর্যটনকেন্দ্র: ছুটিতে জাফলংয়ে সাধারণত বড় ভিড় হয়, আর ২০২৫ সালের এপ্রিলের মধ্যেই সে বছর সাদা পাথরে কয়েক লাখ পর্যটক এসেছিলেন। ভাড়া বাড়ে, রাতের কোচ আর ট্রেনের টিকিট আগেই ফুরিয়ে যায়, আর হোটেল ভরে যায় কয়েক সপ্তাহ আগেই। ইসলামি ছুটি চাঁদের হিসাবে চলে, তাই প্রতি বছর প্রায় ১১ দিন আগে আসে।

১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষে মেলা, গান আর নতুন পোশাকের আয়োজন, আর শহরের কাছের পার্ক ও চা-বাগান স্থানীয় পরিবারে ভরে যায়। প্রধান হিন্দু উৎসব দুর্গাপূজায় প্রতি শরতে কয়েক দিন ধরে বিভাগজুড়ে মন্দির আর মণ্ডপ জমজমাট থাকে।

শাহজালাল (রহ.)-এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বার্ষিক ওরস দুই দিন চলে আর হিজরি পঞ্জিকা মেনে হয়। কবরে গিলাফ চড়ানো হয়, এরপর চলে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল, আর ফজরের পর আখেরি মোনাজাতে শেষ হয়। হাজারো মানুষ আসেন, তাই মাজারে যাওয়ার বা কাছে থাকার পরিকল্পনা থাকলে তারিখ দেখে নিন।

সম্ভব হলে জাফলং, রাতারগুল, সাদা পাথর আর চা-বাগান ছুটির দিন বাদে অন্য দিনে দেখুন; ছুটির দিনে গেলে ভোরে বের হোন, আর শুক্রবার রাতের থাকার জায়গা অনেক আগেই বুক করুন।

সিলেটে সুরমা নদীতে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছেন ভক্তরা, দুর্গাপূজার শেষ পর্ব। ২০২৬ সালে উৎসবের শেষ দুই দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
সিলেটে সুরমা নদীতে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছেন ভক্তরা, দুর্গাপূজার শেষ পর্ব। ২০২৬ সালে উৎসবের শেষ দুই দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছবি: Md Rafayat Haque Khan, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

পরিবার, প্রবীণ ও চলাফেরায় সীমাবদ্ধ ভ্রমণকারী

পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য সিলেট উপযোগী: দূরত্ব কম, বেশির ভাগ জায়গা এক ঘাঁটি থেকে দিনে ঘুরে আসা যায়, আর সবখানেই বাংলাদেশি পরিবারের ভিড়। কঠিন দিক হলো গরম, লম্বা সড়কযাত্রা আর নৌকায় ওঠানামা।

  • সিলেট শহর ও শ্রীমঙ্গলের মতো এক বা দুটি ঘাঁটি বেছে নিন, প্রতি রাতে জায়গা না বদলে দিনে দিনে ঘুরে আসুন।
  • ঢাকা–সিলেট বিমানে যান, অথবা রাতের উপবনে, যার এসি বার্থ ছোট শিশু নিয়ে রাতের বাসের চেয়ে সহজ।
  • নৌকা বুক করার সময় শিশুদের মাপের লাইফ জ্যাকেট চেয়ে নিন, সম্ভব হলে ছোট শিশুর জন্য নিজেরটা নিয়ে আসুন।
  • প্রতিটি বেড়ানোয় পানি, শুকনো খাবার আর বাড়তি কাপড় রাখুন। শৌচাগার কম, আর ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাদা পাথরে পর্যটকদের জন্য কোনো শৌচাগার বা কাপড় বদলানোর জায়গাই ছিল না।
  • হামহামের মতো কঠিন হাঁটা সক্ষম কিশোর আর বড়দের জন্য রাখুন; লাউয়াছড়ার ছোট ট্রেইল ছোটদের জন্য উপযোগী।

প্রবীণদের জন্য সমস্যা সিঁড়ি, এবড়োখেবড়ো পথ আর গরম। শাহজালাল (রহ.)-এর কবর পর্যন্ত যেতে সিঁড়ি ভাঙতে হয়, ঘাটগুলো প্রায়ই কাদামাখা ঢাল আর নৌকায় ওঠার জন্য একটি তক্তা, আর জাফলং ও বিছনাকান্দির পাথুরে চর পিচ্ছিল। চালকসহ গাড়ি আর বিকেলে বিশ্রাম, এতে অনেক পার্থক্য হয়।

সিঁড়ি ছাড়া চলাচলের ব্যবস্থা বিরল: খুব কম জায়গায় র‍্যাম্প বা প্রতিবন্ধীবান্ধব শৌচাগার আছে, বাস হুইলচেয়ারের জন্য তৈরি নয়, আর ট্রেনে উঠতে বগির খাড়া সিঁড়ি বাইতে হয়। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা বিমানযাত্রা, ব্যক্তিগত গাড়ি, লিখিতভাবে সিঁড়িবিহীন প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় এমন হোটেল আর নৌকায় ওঠানামায় সাহায্যের জন্য একজন সঙ্গী নিয়ে পরিকল্পনা করুন; খোঁজ শুরু করতে পারেন আমাদের থাকার জায়গার তালিকা থেকে।

দায়িত্বশীল ভ্রমণ

সিলেটের সেরা অনেক জায়গা চাপে আছে সেইসব পর্যটকের কারণেই, যাঁরা এগুলো ভালোবাসেন। সংক্ষেপে নিয়মগুলো আছে সিলেটে দায়িত্বশীল ভ্রমণ গাইডে; এখানে আরও কিছু খুঁটিনাটি।

  • প্লাস্টিক ও শব্দ: টাঙ্গুয়ার হাওরের নিয়মে একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক, পানিতে বর্জ্য ফেলা আর উচ্চস্বরে গান বাজানো নিষিদ্ধ। পুনরায় ভরা যায় এমন বোতল রাখুন, নিজের ময়লা শহরে ফিরিয়ে আনুন, আর রাতারগুল ও লাউয়াছড়াতেও নিচু স্বরে কথা বলুন।
  • পাথর: ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে সাদা পাথর এলাকার সাদা পাথরের অনেকটাই অবৈধভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে, আর ২০২৫ সালের আগস্টে প্রশাসন উদ্ধার করা পাথর সেখানে ফিরিয়ে আনতে শুরু করে। প্রতিটি পাথর যেখানে আছে সেখানেই রাখুন।
  • বন্যপ্রাণী: দূর থেকে দেখুন, প্রাণীকে খাবার দেবেন না, আর সংরক্ষিত এলাকায় মাছ ধরা, শিকার বা ডিম সংগ্রহ করবেন না। ২০২৬ সালের আগস্টে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে (কিছু বাংলা সংবাদে সব ইঞ্জিনচালিত নৌযানের কথা বলা হয়েছে); কোনো মাঝি নিয়ম ভাঙার প্রস্তাব দিলেও এমন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলুন।
  • ড্রোন: বাংলাদেশের ২০২০ সালের ড্রোন নীতিমালায় আগাম অনুমতি লাগে, যার আবেদন যায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আর সিদ্ধান্ত দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। অনুমতি ছাড়া সীমান্তের কাছে বা সংরক্ষিত বনের ওপর ড্রোন ওড়াবেন না; কর্তৃপক্ষ সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও দেয়, যেমন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় দিয়েছিল।
টাঙ্গুয়ার হাওরে একটি হাউসবোট। ২০২৬ সালের আগস্টে জারি করা নিয়মে এখানে হাউসবোট চালাতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগে, আর হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) ঢোকা নিষেধ।
টাঙ্গুয়ার হাওরে একটি হাউসবোট। ২০২৬ সালের আগস্টে জারি করা নিয়মে এখানে হাউসবোট চালাতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগে, আর হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) ঢোকা নিষেধ। ছবি: Ahnaf Tahmid Manan, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

বিদেশি পর্যটকদের ভিসা ও কাগজপত্র

নিয়ম বদলায়, তাই বুকিংয়ের আগে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর আর নিকটতম বাংলাদেশ মিশনের কাছ থেকে জেনে নিন। সাধারণভাবে:

  • বেশির ভাগ বিদেশি পর্যটকের ভিসা লাগে, যা আগেই বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে নিতে হয়, অথবা কিছু দেশের নাগরিকেরা পৌঁছে পান।
  • পর্যটন, ব্যবসা, বিনিয়োগ বা সরকারি কাজে আসা যুক্তরাজ্য, ইউরোপের দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, চীনসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক, যেসব দেশে বাংলাদেশের মিশন নেই সেসব দেশের নাগরিক আর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশিরা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার বিবেচনায় অন অ্যারাইভাল ভিসা পেতে পারেন। বাংলাদেশ মিশনগুলোর তথ্যমতে এটি একবার প্রবেশের, সর্বোচ্চ ৩০ দিনের ভিসা, ফি প্রায় ৫০ মার্কিন ডলার, যা বিদেশি মুদ্রায় নগদে দিতে হয়। দেখাতে হতে পারে অন্তত ছয় মাস মেয়াদি পাসপোর্ট, ফিরতি বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট, হোটেল বুকিং বা আমন্ত্রণকারীর তথ্য, আর লন্ডনের হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী নগদে বা কার্ডে অন্তত ৫০০ মার্কিন ডলার।
  • বিদেশি পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশি নাগরিকের বিদেশি স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর) অনুমোদনের আবেদন করতে পারেন, যা পাসপোর্টের মেয়াদ পর্যন্ত যতবার খুশি প্রবেশের সুযোগ দেয়।
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬ থেকে বিমানে আসা বিদেশি পাসপোর্টধারীরা স্পেশাল ব্রাঞ্চের ই-কার্ড পোর্টালে অনলাইনে আগমন কার্ড পূরণ করতে পারেন; বিমানবন্দরে কাগজের কার্ডও চলে। এতে বাংলাদেশে আপনার ঠিকানা চাওয়া হয়, তাই প্রথম রাতের বুকিং বা যাঁর কাছে উঠবেন তাঁর ঠিকানা হাতের কাছে রাখুন।
  • দিনের ভ্রমণেও পাসপোর্ট, অথবা তার কপি আর ভিসার পাতার ছবি সঙ্গে রাখুন; সীমান্তের কাছে পুলিশ বা বিজিবি দেখতে চাইতে পারে।
  • বিভাগের প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোর জন্য বিদেশিদের আলাদা অনুমতিপত্র লাগে, এমন কোনো প্রকাশিত নিয়ম আমাদের জানা নেই, তবে শূন্যরেখার কাছে যাওয়া বিজিবির বিবেচনার ওপর নির্ভর করে, তাই একেবারে সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

পাসপোর্ট, ভিসা বা এনভিআর পাতা আর টিকিটের ডিজিটাল কপি ই-মেইলে রাখুন, কাগজের কপি রাখুন আলাদা ব্যাগে। ফ্লাইট, টাকা আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসা নিয়ে আরও জানতে দেখুন বিদেশ থেকে সিলেট ভ্রমণ।

সিলেট শহরের উত্তর প্রান্তের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই ঢাকা ও যুক্তরাজ্য থেকে আসা ফ্লাইটে এ বিভাগে ঢোকার প্রধান পথ।
সিলেট শহরের উত্তর প্রান্তের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই ঢাকা ও যুক্তরাজ্য থেকে আসা ফ্লাইটে এ বিভাগে ঢোকার প্রধান পথ। ছবি: Amranrahman at English Wikipedia, CC BY-SA 3.0, Wikimedia Commons

তথ্যসূত্র

এই গাইডের তথ্য অক্টোবর ২০২৬-এ নিচের সূত্রগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলায়, তাই খোলার সময়, ভাড়া ও নিয়মকানুন স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।

  1. Wikipedia: Sylhet (climate table: NOAA 1991–2020 normals, records since 1952, BMD humidity 1981–2010) (en.wikipedia.org)
  2. Wikipedia: Bangladeshi taka (en.wikipedia.org)
  3. Wikipedia: bKash Limited (en.wikipedia.org)
  4. Prepaid Data SIM Card Wiki: Bangladesh (prepaid-data-sim-card.fandom.com)
  5. Wikipedia: Sylheti language (en.wikipedia.org)
  6. Wikipedia: Shah Jalal Dargah (en.wikipedia.org)
  7. Dhaka Tribune: Two die of dengue in Sylhet, Khulna (3 August 2026) (dhakatribune.com)
  8. The Financial Express: Sylhet tourist spots need to increase basic amenities (22 April 2025) (thefinancialexpress.com.bd)
  9. Bangladesh Monitor: Bangladesh Tourist Police launches 24/7 helpline for travellers (1 October 2023) (bangladeshmonitor.com.bd)
  10. Tourist Police Bangladesh: Sylhet Region (sylreg.touristpolice.gov.bd)
  11. The Daily Star: Govt announces official list of public holidays for 2026 (10 November 2025) (thedailystar.net)
  12. Dhaka Tribune: Hazrat Shahjalal's urs begins (15 September 2014) (dhakatribune.com)
  13. Wikipedia: 2022 India–Bangladesh floods (en.wikipedia.org)
  14. Banglanews24: Dhaka-Sylhet train services resume (24 August 2024) (banglanews24.com)
  15. UNB: Jaflong's shopping paradox, Indian goods openly sold in markets, seized on the road (10 July 2026) (unb.com.bd)
  16. Dhaka Tribune: Drone flying banned in airport areas (19 December 2025) (dhakatribune.com)
  17. Wikipedia: Visa policy of Bangladesh (en.wikipedia.org)
  18. Bangladesh Immigration, Special Branch: E-Arrival Card for foreigners (edcard.specialbranch.gov.bd)
  19. Tourist Police Bangladesh: Tourist Helpline (checked October 2026) (touristpolice.gov.bd)
  20. Jago News 24: No entry in half pants at the Shahjalal shrine (4 September 2023) (jagonews24.com)
  21. Bangladesh High Commission, London: Visa on arrival (bhclondon.org.uk)
  22. iVisa News: Bangladesh launches online arrival and departure cards (26 August 2026, citing The Daily Star) (ivisa.com)
  23. Prothom Alo English: Sunamganj district administration's houseboat directive for Tanguar Haor (3 August 2026) (en.prothomalo.com)
  24. The Daily Star: Looted stones being restored at Sada Pathor (14 August 2025) (thedailystar.net)

এই গাইডের জায়গাগুলো

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার
এখন সবচেয়ে সুন্দর
সিলেট শহর

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার

চতুর্দশ শতকের সুফি সাধকের মাজার, যাঁর জন্য সিলেটকে বলা হয় আধ্যাত্মিক রাজধানী।

জাফলং
জাফলং ও গোয়াইনঘাট

জাফলং

খাসিয়া পাহাড় আর ডাউকি সেতুর নিচে পাথরের বুক বেয়ে বয়ে চলে পিয়াইন নদী।

সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ
এখন সবচেয়ে সুন্দর
কোম্পানীগঞ্জ ও ভোলাগঞ্জ

সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ

ভোলাগঞ্জে ধলাই নদীর পাহাড়ি ঠান্ডা স্বচ্ছ পানি, যার পাথুরে বুকের বেশির ভাগ পাথর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে লুটেরারা তুলে নিয়ে গেছে।

গাইডের আরও অধ্যায়

সিলেট ভ্রমণ গাইড
পড়তে ১৬ মিনিট

সিলেটের ইতিহাস: শ্রীহট্ট থেকে লন্ডনি যুগ

তাম্রশাসন, ১৩০৩ সালে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আগমন, ব্রিটিশ আমলের চুনাপাথর ও চা, সিলেটি নাবিক আর ১৯৪৭ সালের গণভোট: অতীত যেভাবে গড়েছে আজকের সিলেট।

পড়তে ১৪ মিনিট

সিলেট বিভাগের মানুষ, ভাষা ও সংস্কৃতি

সিলেটি ভাষা ও নাগরী লিপি, মরমি গান, মণিপুরি নাচ, খাসিয়া পুঞ্জি, চা-বাগানের উৎসব আর লন্ডনি যোগসূত্র, সঙ্গে সম্মান রেখে বেড়ানোর পরামর্শ।