ছবি: Maharun Nesa Bristy, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

অঞ্চল

শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার: চা-বাগান, বন আর ঝরনা

পড়তে সময় লাগবে ১৭ মিনিট · সর্বশেষ হালনাগাদ: ২১ অক্টো, ২০২৬

চা-বাগান, সাত রঙের চা, লাউয়াছড়ার উল্লুক, মণিপুরি গ্রাম, বনের ঝরনা আর হাকালুকি হাওর। সঙ্গে তিন দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা।

এই অধ্যায়ে
  1. ভূপ্রকৃতি, ইতিহাস ও জনজীবন
  2. শ্রীমঙ্গল ও চা-বাগান
  3. লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
  4. হাইল হাওর ও বাইক্কা বিল
  5. কমলগঞ্জ: মণিপুরি গ্রাম, মাধবপুর লেক ও ধলাই
  6. হামহাম ঝরনায় যাওয়ার পথ
  7. মৌলভীবাজার শহর, কুলাউড়া ও বড়লেখা
  8. খাবার, থাকার ব্যবস্থা ও যাতায়াত
  9. তিন দিনের ভ্রমণপথ
  10. নিরাপত্তা ও স্থানীয় রীতিনীতি

সিলেট থেকে দক্ষিণে এগোলে সমতল ভেঙে জেগে ওঠে ছোট ছোট গোল টিলা। এর অনেকগুলোতেই চা-বাগান। এটাই মৌলভীবাজার জেলা। জেলার সবচেয়ে পরিচিত শহর শ্রীমঙ্গল, যাকে সাধারণত বলা হয় বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী। সারি সারি চা-গাছের ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ছায়াগাছ। টিলার ঢালে পিঠে ঝুড়ি বেঁধে পাতা তুলছেন শ্রমিকেরা। বৃষ্টি থামলে উপত্যকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ভেজা চা-পাতার গন্ধ।

চা-বাগানের ফাঁকে ফাঁকে টিকে আছে পুরোনো বন, যেখানে ভোরে এখনো উল্লুকের ডাক শোনা যায়। আছে জলাভূমি, শীতে যা হাঁসে ভরে ওঠে। আছে মণিপুরি ও খাসিয়া গ্রাম, আর দেশের সবচেয়ে পরিচিত ঝরনাগুলোর দুটি। বেশির ভাগ পর্যটক শ্রীমঙ্গলে দুই-তিন রাত থেকে আশপাশে ঘুরে বেড়ান। এই অধ্যায়ের সব জায়গায় শ্রীমঙ্গল থেকে সড়কপথে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছানো যায়।

ভূপ্রকৃতি, ইতিহাস ও জনজীবন

মৌলভীবাজারের প্রশাসনিক ইতিহাস শুরু ১৮৮২ সালে। তখন এর নাম ছিল দক্ষিণ সিলেট মহকুমা। ১৯৬০ সালে নাম বদলে হয় মৌলভীবাজার, আর ১৯৮৪ সালে পায় জেলার মর্যাদা। প্রায় ২,৮০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলার দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্য। সীমান্তের ওপারের পাহাড় থেকে নেমে এসেছে মনু, ধলাই ও জুড়ী নদী। টিলার সারির ফাঁকে বিস্তৃত দুটি বড় জলাভূমি, হাইল হাওর ও হাকালুকি হাওর।

মৌলভীবাজারের টিলায় চা চাষের বিস্তার ঘটে উনিশ শতকে। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৮৫৪ সালে সিলেটের কাছে মালনীছড়ায় বর্তমান বাংলাদেশের প্রথম চা-বাগান গড়ে ওঠে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে আশপাশের টিলায় ছড়িয়ে পড়ে চা চাষ। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৭০টি চা-বাগান আছে, যার প্রায় ৯০টিই মৌলভীবাজারে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশের মোট চায়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ উৎপাদিত হয়েছে এই জেলায়। আর ২০২২ সালে একক বাগান হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ চা উৎপাদন করেছিল শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট চা-বাগান।

চা-বাগানের সঙ্গে এ অঞ্চলে এসেছে নতুন নতুন জনগোষ্ঠী। আজকের বেশির ভাগ চা-শ্রমিকের পূর্বপুরুষদের ব্রিটিশ আমলে বাগানে কাজ করাতে আনা হয়েছিল। তাঁদের নিজস্ব ভাষা, মন্দির আর উৎসব আছে। বাংলাদেশে মণিপুরি জনগোষ্ঠীর প্রধান আবাসও এই জেলা। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, মৌলভীবাজারে প্রায় ১৮ হাজার মণিপুরি ও প্রায় ১০ হাজার খাসিয়া বাস করেন। খাসিয়ারা থাকেন টিলার ওপরের গ্রামে, যেগুলোকে বলা হয় পুঞ্জি। তাঁদের অনেকে বনের গাছে পান চাষ করেন।

মৌলভীবাজার নামটির পেছনে সাধারণত ১৭৭১ সালের দিকের একটি ঘটনার কথা বলা হয়। কথিত আছে, সে সময় স্থানীয় বিচারক ও জমিদার মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ নিজের জমিতে একটি ছোট বাজার বসিয়েছিলেন। লোকমুখে বাজারটির নাম হয়ে যায় মৌলভীর বাজার। পরে সেই বাজার ঘিরেই গড়ে ওঠে আজকের মৌলভীবাজার শহর।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মৌলভীবাজারে তীব্র লড়াই হয়। সেই সময়ের স্মৃতি আজও বহন করছে কমলগঞ্জের দেওড়াছড়া চা-বাগানের গণকবর এবং শমশেরনগরের বধ্যভূমি। পুরো অঞ্চলের অতীত সম্পর্কে আরও জানতে পড়তে পারেন সিলেটের ইতিহাস।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে টিলাজুড়ে চা-গাছের সারি, মাঝেমধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে উঁচু ছায়াগাছ।
শ্রীমঙ্গলের চারপাশে টিলাজুড়ে চা-গাছের সারি, মাঝেমধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে উঁচু ছায়াগাছ। ছবি: Ifsanjry, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

শ্রীমঙ্গল ও চা-বাগান

রেলপথের ধারে ছোট্ট অথচ ব্যস্ত শহর শ্রীমঙ্গল। বাজার পেরোলেই চা-বাগানের শুরু। কমলগঞ্জ, ভানুগাছ কিংবা মৌলভীবাজারের দিকে যাওয়ার সরকারি সড়কগুলো চলে গেছে বাগানের ভেতর দিয়ে। সাইকেল নিয়ে বেরোতে পারেন, অথবা সিএনজি ভাড়া করতে পারেন। সবুজ টিলার মাঝ দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাবে। মার্চে শুরু হয় চা-পাতা তোলার মৌসুম। শীতে এখানকার সকাল বেশ ঠান্ডা, চারপাশ প্রায়ই কুয়াশায় ঢাকা থাকে।

চা গবেষণা ইনস্টিটিউট

শ্রীমঙ্গল শহরের একটু বাইরে, নিজস্ব চা-বাগানের মাঝখানে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট। ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান চা বোর্ডের গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৭৩ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট হয়। এখানে এখনো গবেষণার কাজ চলে, তাই ইচ্ছেমতো ঢুকে ঘোরার জায়গা নয়। যেতে চাইলে প্রথমে গেটে অনুমতি নিন। অনুমতি না পেলে ফিরে আসুন। আর ঢুকতে দিলে নির্ধারিত রাস্তা ছেড়ে অন্য কোথাও যাবেন না।

চা জাদুঘর

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় আধা ঘণ্টার পথ গেলে ছোট একটি চা জাদুঘর পাবেন। এখানে চা-বাগানে একসময় ব্যবহৃত ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যান, রেকর্ড প্লেয়ার, কলমসহ নানা পুরোনো জিনিস রাখা আছে। ২০২৪ সালে বিডিনিউজ২৪-এর একটি ভ্রমণ প্রতিবেদনের মতে, শুধু এই জাদুঘর দেখতে আলাদা করে যাওয়ার মানে হয় না। অন্য কোথাও যাওয়ার পথে পড়লে ঢুঁ মারতে পারেন, তবে এর জন্য পথ ঘুরে যাওয়ার তেমন কারণ নেই।

সাত রঙের চা

শ্রীমঙ্গলের সবচেয়ে পরিচিত পানীয় সাত রঙের চা। এক গ্লাসে হালকা দুধ-চা থেকে গাঢ় লিকার পর্যন্ত আলাদা আলাদা রঙের স্তর। চামচ দিয়ে না নাড়লে এক স্তরের সঙ্গে অন্যটি মেশে না। বেশির ভাগ বিবরণে এই চায়ের উদ্ভাবক হিসেবে শ্রীমঙ্গলের চা-বিক্রেতা রমেশ রাম গৌড়ের নাম পাওয়া যায়। ২০০২ বা ২০০৩ সালে তিনি দুই স্তরের চা বানানো শুরু করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে ২০০৯ সালের মধ্যে পৌঁছে যান সাত স্তরে। বানানোর কৌশল অবশ্য কখনো প্রকাশ করেননি। সাত রঙের চা উদ্ভাবনের দাবি করেছেন অন্য এক চা-বিক্রেতাও। ফলে কৃতিত্ব কার, তা নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। এখন শ্রীমঙ্গলের অনেক চায়ের দোকানেই নিজস্ব পদ্ধতিতে এই চা বানানো হয়। একবার চেখে দেখতে পারেন। তারপর স্থানীয় চা-পাতা দিয়ে বানানো এক কাপ সাধারণ চা-ও খান।

চা-বাগানে ঘুরতে গেলে মনে রাখবেন, এটি অনেক মানুষের কর্মস্থল ও বাড়িঘর। নির্ধারিত রাস্তা ও হাঁটার পথেই থাকুন। গাছ থেকে চা-পাতা ছিঁড়বেন না। শ্রমিকদের ছবি তুলতে চাইলে আগে তাঁদের অনুমতি নিন। বাগানের ইতিহাস আর চা-শ্রমিকদের জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন চা-বাগান।

শ্রীমঙ্গলের সাত রঙের চা। গ্লাসে আলাদা স্তরে থাকে চা, নাড়া না দিলে রংগুলো মেশে না।
শ্রীমঙ্গলের সাত রঙের চা। গ্লাসে আলাদা স্তরে থাকে চা, নাড়া না দিলে রংগুলো মেশে না। ছবি: আবু সাঈদ, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জ সড়ক ধরে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে লাউয়াছড়া। এ অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত এই বনকে ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। বৃহত্তর পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনের ১,২৫০ হেক্টর জায়গা নিয়ে উদ্যানটি গড়ে উঠেছে। উঁচু গাছের ঘন বন, তার ভেতর দিয়ে চলে গেছে ঢাকা–সিলেট রেললাইন ও একটি প্রধান সড়ক। গাছের ডালে বানর খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ পাশ দিয়ে ট্রেন চলে যেতে দেখলেও অবাক হবেন না।

লাউয়াছড়ার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি এখানকার বানরজাতীয় প্রাণীদের কারণে। বাংলাদেশে পশ্চিমা উল্লুক যেসব জায়গায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় টিকে আছে, লাউয়াছড়া তার একটি। ২০০৭ সালের শুমারিতে লাউয়াছড়া ও বৃহত্তর পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বন মিলিয়ে ১৭টি দলে ৬২টি উল্লুক পাওয়া যায়। ২০২৫ সালে প্রকাশিত আরেক জরিপে শুধু লাউয়াছড়াতেই ১৩টি পরিবারে ৪৮টি উল্লুকের সন্ধান মেলে। বনে হনুমানও আছে, আর রেকর্ড করা হয়েছে ২৪০টির বেশি প্রজাতির পাখি। উল্লুক ডাকে সকালে। স্থানীয় গাইডদের কথায়, অনেক দিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ডাক শুরু হয়। তাই এর আগেই হাঁটার পথে পৌঁছে যান।

হাঁটার পথ ও স্থানীয় গাইড

প্রবেশপথের কাছ থেকেই লাউয়াছড়ার চিহ্নিত হাঁটার পথগুলো শুরু। সবচেয়ে ছোট পথটি ঘুরে আসতে প্রায় ৩০ মিনিট লাগে। চাইলে এই পথে গাইড ছাড়াই হাঁটতে পারবেন। দীর্ঘ পথে যেতে কিংবা উল্লুক দেখার সম্ভাবনা বাড়াতে স্থানীয় গাইড নিন। টিকিট কিনতে হবে প্রবেশপথে। ২০২৪ সালে টিকিটের দাম বেড়েছে। সকালে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছান। পোশাকে চাপা রং বেছে নিন, ধীরে হাঁটুন আর বনের ভেতরে কথা বলুন নিচু স্বরে।

বনের ভেতরে খাসিয়া গ্রাম

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে খাসিয়াদের দুটি পুঞ্জি আছে। একটি লাউয়াছড়া পুঞ্জি, অন্যটি কমলগঞ্জের দিকে মাগুরছড়া পুঞ্জি। ২০১৬ সালে দুই পুঞ্জিতে প্রায় ৭০টি পরিবারের বসবাস ছিল। বেশির ভাগ পরিবার পান চাষ ও পান বাছাইয়ের কাজ করত। পুঞ্জিতে বেড়াতে যাওয়ার আগে মনে রাখবেন, এগুলো মানুষের বসতবাড়ি, পর্যটনকেন্দ্র নয়। বিভিন্ন সময় বাইরের মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকের একটি ভ্রমণ প্রতিবেদনেও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কথা উঠে আসে। বাসিন্দাদের আমন্ত্রণ থাকলে বা তাঁদের পরিচিত কোনো গাইড সঙ্গে থাকলেই ভেতরে যাবেন। ছবি তোলার আগে অনুমতি নিতে ভুলবেন না।

লাউয়াছড়ার ইতিহাসে বড় ক্ষত হয়ে আছে ১৯৯৭ সালের ১৪ জুনের মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রের দুর্ঘটনা। সেদিন গ্যাসের উদ্‌গিরণ থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পুড়ে যায় সংরক্ষিত বনের একাংশ, যার আয়তন হিসাবভেদে প্রায় ৯০ থেকে ৭০০ একর। পরবর্তী সময়ে ভূকম্পন জরিপ ও জমি নিয়েও বিরোধ দেখা দিয়েছে।

কখনো রেললাইন ধরে হাঁটবেন না। ট্রেন প্রায় কোনো আগাম সংকেত ছাড়াই চলে আসতে পারে। বর্ষায় জোঁক থেকে বাঁচতে প্যান্টের নিচের অংশ মোজার ভেতরে গুঁজে নিন। সঙ্গে লবণ অথবা জোঁক ঠেকানোর বিশেষ মোজা রাখুন।

লাউয়াছড়ার বনের ভেতর দিয়ে চলে গেছে ঢাকা–সিলেট রেললাইন।
লাউয়াছড়ার বনের ভেতর দিয়ে চলে গেছে ঢাকা–সিলেট রেললাইন। ছবি: Kritzolina, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons
বাংলাদেশে পশ্চিমা উল্লুক যেসব বনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় টিকে আছে, লাউয়াছড়া তার একটি।
বাংলাদেশে পশ্চিমা উল্লুক যেসব বনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় টিকে আছে, লাউয়াছড়া তার একটি। ছবি: AKM Emdadul Islam Bitu, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

হাইল হাওর ও বাইক্কা বিল

শ্রীমঙ্গলের পশ্চিমে টিলার পাদদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে হাইল হাওর। কোথাও বিল, কোথাও খাল, আবার কোথাও ধানখেত। ঋতু বদলালে হাওরের চেহারাও বদলে যায়। শুকনো মৌসুমে পানি সরে গিয়ে উন্মুক্ত জলভাগ কমে দাঁড়ায় প্রায় ৩,০০০ হেক্টরে।

হাইল হাওরের পূর্ব প্রান্তে বাইক্কা বিল। ২০০৩ সালের ১ জুলাই বিলের প্রায় ১০০ হেক্টর এলাকাকে স্থায়ী অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। পাখি দেখার জন্য এখানে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আছে, যেখান থেকে অভয়াশ্রমের বিস্তৃত অংশ চোখে পড়ে। ২০০৭ সালের একটি প্রতিবেদনে এটিকে বাংলাদেশের জলাভূমিতে তৈরি এ ধরনের প্রথম টাওয়ার বলা হয়েছিল। ওই বছরের জানুয়ারিতে পাখি শুমারিতে ৩৫ প্রজাতির প্রায় ৭,২০০ জলচর পাখি গোনা হয়। পালাসি কুড়া ঈগলের মতো বিরল শিকারি পাখিরও দেখা মিলেছে এখানে।

আগের সেই বাইক্কা বিল এখন নানা সমস্যায় পড়েছে। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, পলি জমে জলাভূমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়ে গেছে। ওই প্রতিবেদনে পাখি শিকার, রাতে অবৈধভাবে মাছ ধরা আর পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার কথাও এসেছে। দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বিধিনিষেধ এসেছে। ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারের একজন উপদেষ্টার পরিদর্শনের পর সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়, বন্ধ করা হয় পিকনিক। পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে একটি নোটিশও দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এসব নির্দেশনা ঠিকমতো কার্যকর হয়নি।

বাইক্কা বিল দেখতে যাওয়ার আগে শ্রীমঙ্গলে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হোন, দর্শনার্থীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে কি না। গেট বন্ধ থাকলে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। প্রবেশের অনুমতি থাকলে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন। সঙ্গে দূরবীন নিন, সকাল ৭টার আগেই পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। পাখি দেখার সময় টাওয়ার ও নির্ধারিত হাঁটার পথ ছেড়ে অন্য কোথাও যাবেন না। আরও জানতে পড়ুন হাওর, বন ও বন্যপ্রাণী।

হাইল হাওরের বাইক্কা বিল। এখানকার পর্যবেক্ষণ টাওয়ারকে ২০০৭ সালের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জলাভূমিতে নির্মিত এ ধরনের প্রথম টাওয়ার বলা হয়েছিল।
হাইল হাওরের বাইক্কা বিল। এখানকার পর্যবেক্ষণ টাওয়ারকে ২০০৭ সালের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জলাভূমিতে নির্মিত এ ধরনের প্রথম টাওয়ার বলা হয়েছিল। ছবি: Grenadiersk, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

কমলগঞ্জ: মণিপুরি গ্রাম, মাধবপুর লেক ও ধলাই

লাউয়াছড়া পেরিয়ে সড়ক ধরে এগোলেই কমলগঞ্জ। চা-বাগান, ধানখেতের উপত্যকা আর ধলাই নদী নিয়ে এই উপজেলা। এখানে মণিপুরি ও খাসিয়া, দুই জনগোষ্ঠীরই বসবাস। মণিপুরিদের তাঁতে বোনা কাপড়ই কমলগঞ্জের সবচেয়ে পরিচিত হস্তশিল্প।

রাস উৎসব

কমলগঞ্জের সবচেয়ে বড় বার্ষিক উৎসব মহারাসলীলা। সাধারণত নভেম্বরের পূর্ণিমায় এই উৎসব হয়। মাধবপুরের জোড়ামণ্ডপে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের রাস উৎসবের প্রথম নথিভুক্ত বিবরণ ১৮৪২ সালের। ২০২৫ সালে উৎসবটির ১৮৩তম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৈতৈ মণিপুরিরাও ১৯৮৬ সাল থেকে আদমপুরে নিজেদের রাস উৎসব পালন করছেন। দিনের বেলায় রাখাল নৃত্যে ফুটে ওঠে কৃষ্ণের শৈশবের নানা কাহিনি। রাত ১১টার দিকে শুরু হয় মূল নৃত্যানুষ্ঠান, চলে ভোর পর্যন্ত। সাদা ঘোমটা পরা শিল্পীরা ঢোল, করতাল ও শঙ্খের ধ্বনির সঙ্গে নাচের ছন্দে তুলে ধরেন রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি। নানা ধর্মের হাজারো মানুষ আসেন এই উৎসবে। মণ্ডপ ঘিরে বসে মেলাও।

রাস ধর্মীয় উৎসব। তাই শালীন পোশাক পরে যান, নাচের বৃত্তের বাইরে থেকে অনুষ্ঠান দেখুন। ছবি তোলার সময় ফ্ল্যাশ বন্ধ রাখবেন। নৃত্যশিল্পীদের ছবি তুলতে হলে আগে অনুমতি নিন। উৎসবে প্রচুর ভিড় হয় বলে যাওয়ার আগেই ফেরার গাড়ি ঠিক করে রাখা ভালো।

মণিপুরি পরিবারের বাড়িতে থাকা

মণিপুরি পরিবারের সঙ্গে থেকে তাঁদের জীবনযাত্রা কিছুটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ আছে আদমপুর ও ভানুবিল মাঝেরগাঁওয়ে। ২০১৮ সাল থেকে এখানকার কয়েকটি পরিবার পর্যটকদের নিজেদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে সর্বোচ্চ চারজনের একটি রুমের ভাড়া ছিল প্রতি রাতে প্রায় ২,০০০ টাকা। খাবারের জন্য আলাদা খরচ দিতে হতো। মণিপুরিদের তাঁতের কাজ দেখা আর তাঁদের ঘরোয়া খাবার চেখে দেখার সবচেয়ে ভালো উপায় এই হোমস্টে। যাওয়ার আগেই থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নিন।

মাধবপুর লেক

শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে মাধবপুর লেক। মাধবপুরের চালু চা-বাগানের ভেতরের এই জলাধারে নানা রঙের শাপলা ফোটে, দেখা যায় নীলপদ্মও। লেক ঘুরে দেখতে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় রাখলেই চলে। লাউয়াছড়া বেড়াতে গেলে একই সফরে মাধবপুর লেকও দেখে আসতে পারেন।

ধলাইয়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ

১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর কমলগঞ্জের ধলাই সীমান্তঘাঁটিতে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থানে আক্রমণ চালান মুক্তিযোদ্ধারা। সেই যুদ্ধে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহি মোহাম্মদ হামিদুর রহমান শত্রুপক্ষের মেশিনগান পোস্ট লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়েন। এরপর তিনি গুলিবিদ্ধ হন। বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর। মৃত্যুর পর তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বীরত্বের খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ দেওয়া হয়। প্রথমে তাঁর দাফন হয় সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসায়। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তাঁর দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।

ধলাই সীমান্তঘাঁটির কাছে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ দেখতে পাবেন। প্রথমটি ১৯৯২ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের তৈরি। দ্বিতীয়টি পরে নির্মাণ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সক্রিয় সীমান্তচৌকি আছে। দিনের আলোয় ঘুরতে যান এবং দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলুন। ছবি তুলতে চাইলে আগে অনুমতি নিতে হবে।

কমলগঞ্জের আদমপুরে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স। একই উপজেলার মাধবপুরে সাধারণত নভেম্বরের পূর্ণিমায় হয় মহারাসলীলা। রাত ১১টার দিকে নৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে ভোর পর্যন্ত।
কমলগঞ্জের আদমপুরে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স। একই উপজেলার মাধবপুরে সাধারণত নভেম্বরের পূর্ণিমায় হয় মহারাসলীলা। রাত ১১টার দিকে নৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে ভোর পর্যন্ত। ছবি: Sufe, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

হামহাম ঝরনায় যাওয়ার পথ

কমলগঞ্জের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনের কুরমা বিটের অনেকটা ভেতরে হামহাম ঝরনা। পাহাড় বেয়ে দুই ধাপে নেমে এসেছে এর পানির ধারা। স্থানীয় গাইড শ্যামল দেববর্মাকে সঙ্গে নিয়ে একদল পর্যটক সেখানে পৌঁছানোর পর ঝরনাটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। ঘটনাটি ২০০৯ নাকি ২০১০ সালের, তা নিয়ে বিভিন্ন বিবরণে মতভেদ আছে। স্থানীয়দের কাছে হামহাম চিতা ঝরনা নামেও পরিচিত। একটি বিবরণে বলা হয়, একসময় আশপাশে চিতাবাঘ দেখা গিয়েছিল বলেই এমন নাম। ঝরনাটির উচ্চতা নির্ভুলভাবে মাপা হয়নি। বিভিন্ন হিসাবে এটি প্রায় ১৩৫ থেকে ১৬০ ফুট, অর্থাৎ মোটামুটি ৪০ থেকে ৫০ মিটার উঁচু।

শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জ হয়ে গাড়িতে যেতে হবে কলাবনপাড়ায়। তৈলংবাড়ি নামেও পরিচিত গ্রামটি চাম্পারায় চা-বাগানের কাছে, বনে ঢোকার আগে এটিই শেষ বসতি। এখান থেকে ঝরনা পর্যন্ত হাঁটতে লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা, ফিরতেও লাগে একই সময়। পথে মোকাম টিলা পেরোতে হয়। কোথাও কাদামাখা টিলার ঢাল, কোথাও ছড়ার ভেতর দিয়ে হাঁটা। ঝরনায় যাওয়ার পথ দুটি। একটি ছড়া ধরে গেছে, সেটি তুলনামূলক দীর্ঘ। অন্যটি পাহাড়ের ওপর দিয়ে, ঢাল বেশি খাড়া। ছড়ায় পানির অবস্থা দেখে গাইড ঠিক করেন কোন পথে যাবেন।

হামহামে পানির ধারা বেশি দেখতে চাইলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে অথবা বর্ষা শেষ হওয়ার পরপর যান। শীতকালে ঝরনার পানি কমে সরু ধারায় নেমে আসে। সকাল ৮টার মধ্যে হাঁটা শুরু করা জরুরি, যাতে সন্ধ্যার আগেই বন থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। ঝরনার কাছে রাত কাটানোর ব্যবস্থা নেই। কলাবনপাড়ায় স্থানীয় গাইড পাবেন। ২০২১ সালে গাইডের ভাড়া ছিল প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। সে সময় শ্রীমঙ্গল থেকে সিএনজিতে যাওয়া-আসার খরচ পড়ত প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা। এরপর ভাড়া সম্ভবত বেড়েছে। তাই রওনা দেওয়ার আগেই গাইড ও গাড়ির ভাড়া ঠিক করে নেবেন।

  • ভালো গ্রিপের ট্রেকিং স্যান্ডেল বা জুতা, সঙ্গে প্রত্যেকের জন্য একটি করে বাঁশের লাঠি
  • জনপ্রতি অন্তত ২ লিটার পানি, খাবার স্যালাইন ও শুকনো খাবার
  • পোকামাকড় তাড়ানোর ক্রিম, ছোট প্রাথমিক চিকিৎসার কিট এবং লবণ বা জোঁক ঠেকানোর বিশেষ মোজা
  • ফোন রাখার জন্য ড্রাই ব্যাগ আর কাদায় মাখামাখি হলেও অসুবিধা নেই এমন পোশাক

স্থানীয় গাইড ছাড়া হামহামের পথে বের হবেন না। বৃষ্টির পর ছড়ায় হঠাৎ পানি বেড়ে যেতে পারে। পাহাড়ের খাড়া ঢালও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। পথে সাপ ও জোঁকের উপদ্রব আছে। খাবারের প্যাকেট বা অন্য কোনো মোড়ক বনে ফেলে আসবেন না। সব আবর্জনা সঙ্গে নিয়ে ফিরুন।

রাজকান্দি বনের গভীরে হামহাম ঝরনা। কাছের গ্রাম থেকে হেঁটে পৌঁছাতে লাগে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
রাজকান্দি বনের গভীরে হামহাম ঝরনা। কাছের গ্রাম থেকে হেঁটে পৌঁছাতে লাগে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। ছবি: Nahid Sultan, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

মৌলভীবাজার শহর, কুলাউড়া ও বড়লেখা

মৌলভীবাজার শহর ও মনু নদী

মনু নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা ব্যস্ত বাজার-শহর মৌলভীবাজারই জেলার সদর। পৌরসভার নিজস্ব তথ্য বলছে, ১৮৮৭ সাল থেকে এটি পৌরসভা। বাংলাপিডিয়ায় অবশ্য সালটি ১৯৩০। পর্যটকেরা মূলত ব্যাংকের কাজ, বাস ধরা কিংবা দরকারি কেনাকাটার জন্য এ শহরে আসেন। তবে সন্ধ্যায় মনু নদীর পাড়ে হাঁটতে ভালো লাগবে। কাছেই মনু ব্যারাজ ও বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক।

মাধবকুণ্ড ও পরীকুণ্ড

বড়লেখার মাধবকুণ্ড সম্ভবত মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে পরিচিত দর্শনীয় স্থান। পাথারিয়া পাহাড় বেয়ে নেমে আসা গঙ্গামারা ছড়ার পানি এখানে গভীর কুণ্ডে পড়েছে। প্রচলিত হিসাবে ঝরনাটির উচ্চতা প্রায় ১৬২ ফুট, অর্থাৎ ৫০ মিটারের কাছাকাছি। জেলা তথ্য বাতায়নে অবশ্য পাহাড়টির উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট বলা হয়েছে। গাড়ি রাখার জায়গা থেকে বাঁধানো পথ ধরে ঝরনার দিকে যাওয়া যায়। চারপাশের প্রায় ৫০০ একর জায়গা নিয়ে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক।

প্রচলিত হিন্দু বিশ্বাসে মাধবকুণ্ডের সঙ্গে শিবের সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবছর চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এখানে বারুণী স্নান হয়। ইংরেজি পঞ্জিকা অনুযায়ী সময়টি মার্চ বা এপ্রিল মাসে পড়ে। সেদিন পুণ্যার্থীরা কুণ্ডের পানিতে স্নান করেন, আর ঝরনায় যাওয়ার পথজুড়ে বসে মেলা। মাধবকুণ্ড থেকে কাছেই পরীকুণ্ড নামে আরেকটি ঝরনা আছে। বর্ষায় দুটি ঝরনাতেই পানির প্রবাহ সবচেয়ে বেশি থাকে।

মাধবকুণ্ডে ঝরনার পানির প্রবাহ বেশি দেখতে চাইলে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে যান। মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখাগামী বাসে উঠে কাঁঠালতলী বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিতে আরও প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ। ট্রেনে গেলে কুলাউড়া জংশন থেকে দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার, আর দক্ষিণভাগ রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার। ঝরনার পাশের পাথর পিচ্ছিল। সেখানে ওঠার চেষ্টা করবেন না।

হাকালুকি হাওর

হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলাভূমিগুলোর একটি। প্রায় ১৮১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের হাওরটি ছড়িয়ে আছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা, কুলাউড়া ও জুড়ী এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জে। হাওরের ভেতরে ২৩৮টির বেশি বিল। শুকনো মৌসুমে এসব বিলে মোট পানির বিস্তৃতি কমে প্রায় ৪,৪০০ হেক্টরে নেমে আসে। বর্ষায় বিলগুলো এক হয়ে ১৮ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পানিতে ঢেকে যায়। ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে এখানে ৪১৭ প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে।

হাকালুকিতে পাখি দেখতে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ভালো সময়। বর্ষার বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখতে চাইলে যান জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। হাওর ঘুরতে নৌকা ভাড়া করতে হবে। স্থানীয়ভাবে নৌকা পাবেন, কিন্তু ওঠার আগেই কত ঘণ্টা ঘুরবেন আর ভাড়া কত, তা ঠিক করে নিন। শীতকালে পাখি দেখার জন্য স্থানীয় অভিজ্ঞ গাইড সঙ্গে রাখুন। কেউ বুনো পাখি বিক্রি করতে চাইলে কখনো কিনবেন না।

পৃথিমপাশা নবাববাড়ি

মৌলভীবাজার শহরের পূর্ব দিকে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশায় নবাববাড়ি, একটি জমিদার পরিবারের পুরোনো আবাস। আঠারো শতকের শেষ দিকে জমি বরাদ্দ পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই পরিবারের জমিদারির শুরু। এ পরিবারেরই নবাব আলী আমজাদ খান ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী জমিদারদের একজন। সিলেটের আলী আমজাদের ঘড়ি তাঁর নামেই পরিচিত। প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে নবাববাড়ির প্রাঙ্গণ। সেখানে শিয়া রীতিতে তৈরি ইমামবাড়া, পরিবারের পুরোনো ভবন আর পাথরে বাঁধানো পাড়ের বড় একটি দিঘি রয়েছে।

নবাববাড়িতে এখনো পরিবারের লোকজন থাকেন। এটি তাঁদের ব্যক্তিগত বাসস্থান, তাই প্রাঙ্গণ থেকে ইমামবাড়া ও দিঘি দেখেই ফিরতে পারেন। আরও ভেতরে যেতে হলে আগে অনুমতি নিন। মহররম মাসে আশুরা উপলক্ষে পৃথিমপাশায় শিয়া মুসলমানরা জড়ো হন। এ সময় তাঁরা শোক পালন করেন। অনুষ্ঠান দেখতে চাইলে নীরবে ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখুন, নয়তো তাঁদের শোকানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে চলতে দিন।

প্রচলিত হিসাবে পাথারিয়া পাহাড় থেকে প্রায় ৫০ মিটার নিচে পড়েছে মাধবকুণ্ডের পানি। ঝরনার পাশের পাথর সারা বছরই পিচ্ছিল থাকে।
প্রচলিত হিসাবে পাথারিয়া পাহাড় থেকে প্রায় ৫০ মিটার নিচে পড়েছে মাধবকুণ্ডের পানি। ঝরনার পাশের পাথর সারা বছরই পিচ্ছিল থাকে। ছবি: Shadidraihan, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

খাবার, থাকার ব্যবস্থা ও যাতায়াত

কী খাবেন

শ্রীমঙ্গলে এসে চা না খেয়ে ফেরা কঠিন। সাধারণ চায়ের পাশাপাশি সাত রঙের চাও চেখে দেখতে পারেন। এখানকার খাসিয়া পুঞ্জিগুলোতে পান চাষ হয়, আর হাইল হাওর থেকে আসে মাছ। শহরের রেস্টুরেন্টে ভাতের সঙ্গে ভর্তা, ডাল ও নানা পদের তরকারি পাবেন। সুযোগ হলে কোনো মণিপুরি পরিবারের বাড়িতে এক বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। সিলেটের আঞ্চলিক খাবার নিয়ে বিস্তারিত আছে খাবার ও চা নির্দেশিকায়।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্য শ্রীমঙ্গলে সবচেয়ে বেশি বিকল্প পাবেন। শহরে সাধারণ গেস্টহাউস আছে, আবার ভানুগাছ ও কমলগঞ্জ সড়কের পাশে চা-বাগানের মাঝেও রিসোর্ট রয়েছে। চা-বাগান, লাউয়াছড়া, কমলগঞ্জ ও হামহাম ঘুরতে চাইলে শ্রীমঙ্গলেই থাকা সুবিধাজনক। মৌলভীবাজার শহরের হোটেলগুলো তুলনামূলক সাধারণ মানের হলেও হাকালুকি, পৃথিমপাশা ও মাধবকুণ্ড যাওয়ার জন্য শহরটি ভালো ঘাঁটি। ঈদ, শীতের সাপ্তাহিক ছুটি ও রাস উৎসবের সময় রুম আগেভাগেই বুক করে রাখুন। হোটেল ও রিসোর্টের তালিকা পাবেন শ্রীমঙ্গলে থাকার জায়গা এবং মৌলভীবাজারে থাকার জায়গা পাতায়।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা–সিলেটের প্রধান রেলপথেই শ্রীমঙ্গল। এখানে যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক উপায় ট্রেন। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে আন্তনগর ট্রেনে শ্রীমঙ্গল পৌঁছাতে প্রায় ৫ ঘণ্টা লাগত। এই রেলপথ সিলেট পর্যন্ত গেছে। ট্রেনের সময়সূচি বদলায়, তাই যাওয়ার আগে বর্তমান সময়সূচি দেখে নিন, টিকিটও কেটে রাখুন আগেভাগে। ২০২৪ সালের একটি ভ্রমণ নির্দেশিকায় প্রায় ১০ দিন আগে টিকিট কাটার পরামর্শ ছিল। বাসেও যেতে পারেন। ঢাকার সায়েদাবাদ, কলাবাগানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস ছাড়ে। যানজটের ওপর নির্ভর করে সময় লাগে প্রায় ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা। রাতের বাস সাধারণত ভোরের দিকে শ্রীমঙ্গলে পৌঁছায়। রেলপথে আরও সামনে কুলাউড়া জংশন, যেখান থেকে মাধবকুণ্ড ও হাকালুকি যাওয়া সুবিধাজনক।

কীভাবে ঘুরবেন

শ্রীমঙ্গলের আশপাশে ঘুরতে বেশির ভাগ মানুষ সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করেন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে চারজন বসার মতো একটি সিএনজি সারা দিনের জন্য নিতে প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা লাগত। রওনা দেওয়ার আগেই চালকের সঙ্গে কোন কোন জায়গায় যাবেন, কত ঘণ্টা সময় পাবেন এবং মোট ভাড়া কত হবে, ঠিক করে নিন। দল বড় হলে খোলা জিপ নিতে পারেন। আর কাছের চা-বাগানগুলো ঘুরে দেখার সবচেয়ে সুন্দর উপায় সাইকেল। হাকালুকি, পৃথিমপাশা ও মাধবকুণ্ড দেখতে চাইলে মৌলভীবাজার বা কুলাউড়ায় এক রাত থাকার পরিকল্পনা করুন। যাতায়াতের বিস্তারিত জানতে পড়ুন যাতায়াত ও ঘোরাঘুরি।

তিন দিনের ভ্রমণপথ

প্রথম দিন: শ্রীমঙ্গল ও চা-বাগান

সকালের ট্রেনে কিংবা রাতের বাসে শ্রীমঙ্গলে পৌঁছে প্রথম দিনটা চা-বাগানের জন্য রাখুন। বাগানের ভেতরের রাস্তা ধরে হেঁটে ঘুরতে পারেন, সাইকেল নিতে পারেন, অথবা সিএনজিতে যেতে পারেন। গেটে অনুমতি পেলে চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণেও কিছুক্ষণ হাঁটুন। দিনের শেষে কোনো চায়ের দোকানে বসে এক গ্লাস সাত রঙের চা চেখে দেখুন।

দ্বিতীয় দিন: লাউয়াছড়া ও কমলগঞ্জ

দ্বিতীয় দিন সকাল সকাল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথে চলে যান। হাতে যথেষ্ট সময় রেখে গাইডের সঙ্গে বনের দীর্ঘ পথে হাঁটুন। দুপুরে খাওয়ার পর মাধবপুর লেক দেখে আদমপুর বা ভানুবিলের কোনো মণিপুরি গ্রামে যেতে পারেন। সময় হাতে থাকলে ধলাইয়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধও দেখে আসুন। রাতে শ্রীমঙ্গলে ফিরতে পারেন, অথবা আগে থেকে ব্যবস্থা করে কোনো মণিপুরি পরিবারের বাড়িতে থাকতে পারেন।

তৃতীয় দিন: হামহাম অথবা হাওর ও ঝরনা

বর্ষায় গেলে তৃতীয় দিনটি হামহাম ঝরনার জন্য রাখুন। সকাল ৭টার মধ্যে শ্রীমঙ্গল থেকে রওনা হতে হবে। বনের পথ ধরে ঝরনায় যাওয়া ও ফিরে আসতে পুরো দিন লাগবে। শীতকালে পরিকল্পনা বদলে নিতে পারেন। বাইক্কা বিলে প্রবেশের অনুমতি থাকলে ভোরে সেখানে যান। তারপর মৌলভীবাজার শহর হয়ে উত্তরে এগিয়ে হাকালুকিতে পাখি দেখুন, অথবা মাধবকুণ্ড ঝরনা ঘুরে আসুন। সন্ধ্যায় কুলাউড়া থেকে ট্রেনে ফিরতে পারেন।

সময় মাত্র দুই দিন হলে হামহাম ও হাকালুকি বাদ দিন। চার দিন হাতে থাকলে মৌলভীবাজার বা কুলাউড়ায় আরও এক রাত থাকতে পারেন। ছোট ভ্রমণের পরিকল্পনা পাবেন শ্রীমঙ্গলে সপ্তাহান্ত নির্দেশিকায়। চাইলে এর সঙ্গে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানসহ হবিগঞ্জ ঘোরাও সহজে যোগ করা যায়। মৌসুম অনুযায়ী ভ্রমণ সাজাতে দেখুন কখন যাবেন।

নিরাপত্তা ও স্থানীয় রীতিনীতি

  • বন: লাউয়াছড়া ও হামহামে গাইড নিয়ে নির্ধারিত পথেই হাঁটুন। রেললাইন এড়িয়ে চলুন এবং সন্ধ্যার আগেই বন থেকে বেরিয়ে আসুন।
  • ঝরনা: মাধবকুণ্ড, পরীকুণ্ড ও হামহামের পাথর সারা বছরই পিচ্ছিল থাকে। পাথরে উঠবেন না। ভারী বৃষ্টির পর ঝরনার নিচের কুণ্ডে সাঁতার কাটবেন না।
  • সীমান্ত: কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও বড়লেখা ভারতের সীমান্তঘেঁষা এলাকা। বাংলাদেশের সীমানার বাইরে যাবেন না। পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন, বিজিবির নির্দেশনা মেনে চলুন।
  • হাওর: হাকালুকি ও হাইল হাওরে নৌকায় চড়ার সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরুন। ঝড়ের মধ্যে নৌকা নিয়ে পানিতে নামবেন না।
  • স্থানীয় মানুষ: চা-বাগান, খাসিয়া পুঞ্জি ও মণিপুরি গ্রাম শুধু বেড়ানোর জায়গা নয়, মানুষের ঘরবাড়ি ও কাজের জায়গাও। শালীন পোশাক পরুন, কারও ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন। কোথাও জুতা খুলতে বললে খুলে রাখুন।
  • বন্যপ্রাণী: বানরকে খাবার দেবেন না। বনের পথে জোরে গান বাজাবেন না। ময়লা-আবর্জনা ফেলে না রেখে সঙ্গে করে শহরে নিয়ে আসুন।

ঘুরতে গিয়ে প্রকৃতি ও স্থানীয় মানুষের প্রতি কীভাবে আরও যত্নশীল থাকবেন, তা জানতে পড়ুন দায়িত্বশীল ভ্রমণ।

তথ্যসূত্র

এই গাইডের তথ্য অক্টোবর ২০২৬-এ নিচের সূত্রগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করেছি। সময়ের সঙ্গে তথ্য বদলাতে পারে। তাই যাওয়ার আগে খোলা থাকার সময়, ভাড়া ও নিয়মকানুন স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

  1. Banglapedia: Maulvibazar District (en.banglapedia.org)
  2. Banglapedia: Kamalganj Upazila (en.banglapedia.org)
  3. Banglapedia: Hakaluki Haor (en.banglapedia.org)
  4. Wikipedia: Moulvibazar District (en.wikipedia.org)
  5. Wikipedia: Lawachara National Park (en.wikipedia.org)
  6. Wikipedia: Bangladesh Tea Research Institute (en.wikipedia.org)
  7. Wikipedia: Hamidur Rahman (en.wikipedia.org)
  8. Wikipedia: Madhabkunda waterfall (en.wikipedia.org)
  9. Wikipedia: Prithimpassa Zamindar Bari (en.wikipedia.org)
  10. Wikipedia: Hum Hum Waterfall (en.wikipedia.org)
  11. Moulvibazar district portal: Madhabkunda waterfall (moulvibazar.gov.bd)
  12. The Daily Star: Long-term plan behind high tea production (2023) (thedailystar.net)
  13. Prothom Alo English: Seven-colour tea a hot attraction in Bangladesh (2019) (en.prothomalo.com)
  14. bdnews24.com: শ্রীমঙ্গলে যে দুটি জায়গায় যাওয়া পণ্ডশ্রম (29 November 2024) (bangla.bdnews24.com)
  15. The Daily Star: Living in constant fear (Khasi punjis, 2016) (thedailystar.net)
  16. The Daily Star, Star Weekend Magazine: Baikka Beel under Threat (2 February 2007) (archive.thedailystar.net)
  17. The Daily Star: Baikka Beel's silent collapse (2026) (thedailystar.net)
  18. The Daily Star: A night of dance, music and devotion (7 November 2025) (thedailystar.net)
  19. The Daily Star: Bury Birshrestha Hamidur Rahman's remains in Moulvibazar (13 November 2007) (thedailystar.net)
  20. UNB: Trekking to Ham Ham Waterfall, Moulvibazar (2021) (unb.com.bd)
  21. Banglapedia: Tea Industry (en.banglapedia.org)
  22. The Financial Express: All 168 tea gardens start tea plucking as season begins (2025) (thefinancialexpress.com.bd)
  23. The Daily Star: Inside Lawachara, beauty thrives amid mounting threats (2026) (thedailystar.net)
  24. Jagonews24: Forest under strain, tourist surge outnumbers wildlife in Lawachara (2026) (jagonews24.com)
  25. Prothom Alo: লাউয়াছড়ায় পর্যটকের ভিড়ে ‘বিঘ্নিত’ বন্য প্রাণীর জীবন (2025) (prothomalo.com)
  26. Bangladesh Tourism Board (Beautiful Bangladesh): Madhabpur Lake (beautifulbangladesh.gov.bd)
  27. UNB: Moulvibazar travel guide (2024) (unb.com.bd)
  28. The Financial Express: Exploring Sreemangal in less than 24 hours (2025) (thefinancialexpress.com.bd)
  29. Bangladesh Post: Sreemongal's seven-colour tea gains popularity worldwide (bangladeshpost.net)
  30. ResearchGate: Climate profile: temperature, rainfall and disaster trends at Lawachara NP (researchgate.net)
  31. Dhaka Tribune: Entry fees raised fivefold for six botanical gardens, eco parks (dhakatribune.com)
  32. Prothom Alo: Lawachara entry fee more than doubled, visitors angry (prothomalo.com)
  33. The Daily Star: Lawachara forest: Hopes not lost (online.thedailystar.net)
  34. Moulvibazar Municipality: Municipal service portal (moulvibazar.paurasheba.com)
  35. Moulvibazar District Administration: Background of the district administration (moulvibazar.gov.bd)
  36. The Business Standard: Higher auction price fetches Tk562cr more for tea sector in 2 years (tbsnews.net)
  37. Bonik Barta: Higher auction price floor boosts tea estates' earnings by BDT 4.65 billion (en.bonikbarta.com)

এই গাইডে যেসব জায়গা আছে

শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান
এখনই সেরা সময়
শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান

শ্রীমঙ্গলের ঢেউখেলানো চা-বাগান, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট আর বিখ্যাত সাত রঙের চা।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
এখনই সেরা সময়
শ্রীমঙ্গল

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই বনের উঁচু গাছ থেকে ভেসে আসে পশ্চিমা উল্লুকের ডাক। বনের বুক চিরে চলে গেছে রেললাইন।

হামহাম জলপ্রপাত
শ্রীমঙ্গল

হামহাম জলপ্রপাত

রাজকান্দি বনের গভীরে আড়ালে থাকা এই ঝরনায় পৌঁছানোর একমাত্র উপায় কাদামাখা জঙ্গলের পথ ধরে হাঁটা।

গাইডের আরও অধ্যায়

সিলেট ভ্রমণ গাইড
পড়তে সময় লাগবে ১৬ মিনিট

সিলেট ভ্রমণ গাইড: এক নজরে সিলেট বিভাগ

সিলেট বিভাগ কোথায়, চার জেলায় কী দেখবেন, কখন যাবেন, কত দিন থাকবেন, কীভাবে ঘুরবেন আর ভ্রমণে কী খেয়াল রাখবেন, জানুন এই গাইডে।

পড়তে সময় লাগবে ১৮ মিনিট

সিলেটের ইতিহাস: শ্রীহট্ট থেকে লন্ডনি যুগ

তাম্রশাসন, ১৩০৩ সালে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আগমন, ব্রিটিশ আমলের চুনাপাথর ও চা, সিলেটি নাবিক আর ১৯৪৭ সালের গণভোট: অতীত যেভাবে গড়েছে আজকের সিলেট।

পড়তে সময় লাগবে ১৬ মিনিট

সিলেট বিভাগের মানুষ, ভাষা ও সংস্কৃতি

সিলেটি ভাষা ও নাগরী লিপি, মরমি গান, মণিপুরি নাচ, খাসিয়া পুঞ্জি, চা-বাগানের উৎসব ও লন্ডনপ্রবাসীদের কথা। সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ভ্রমণের পরামর্শ।