ত্রিপুরা সীমান্তে উল্লুকের বন, দুই ডজন চা-বাগান, পুরোনো মাজার-আখড়া আর বিস্তীর্ণ হাওর, সবই ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক থেকে সহজ দূরত্বে।
এই অধ্যায়ে
বেশির ভাগ ভ্রমণকারী হবিগঞ্জ দেখেন বাসের জানালা দিয়ে, ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ধরে যেতে যেতে, আর সেটা আফসোসের কথা। এ জেলায় আছে বিভাগের সেরা দুটি বন, সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গা, যেখানে ত্রিপুরা সীমান্তের কাছে এখনো উল্লুক ডাকে; দক্ষিণের টিলাজুড়ে চা-বাগানের সারি। উত্তরে জমি নেমে গেছে এত বিস্তীর্ণ হাওরে যে বর্ষায় বিথঙ্গল আখড়ায় যাওয়া মানেই নৌকায় চড়ে জলযাত্রা।
সিলেট বিভাগের মধ্যে ঢাকার সবচেয়ে কাছের জেলাও এটি, আর বেশির ভাগ মানুষ যতটা সময় দেন, তার চেয়ে ধীরেসুস্থে ঘুরলে হবিগঞ্জ দেখায় অনেক বেশি: সকালটা বনে, দুপুর চা-বাগানে, আর সন্ধ্যা কোনো মাজারে কিংবা পানির ওপর।
কেন হবিগঞ্জ
বিভাগের দক্ষিণ-পশ্চিমে, ত্রিপুরা সীমান্ত আর সুনামগঞ্জ-কিশোরগঞ্জের হাওরের মাঝখানে প্রায় ২,৬০০ বর্গকিলোমিটারের জেলা হবিগঞ্জ। জেলাটি স্পষ্ট দুই ভাগে বিভক্ত। দক্ষিণ ও পূর্বে চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবলে বন আর চা-বাগানে ঢাকা নিচু টিলা; উত্তর ও পশ্চিমে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ ঘিরে সমতল প্লাবনভূমি, যার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে কুশিয়ারা, কালনী ও খোয়াই, আর বর্ষায় ভরে ওঠে হাওর।
পর্যটকের জন্য এর মানে অল্প দূরত্বে নানা রকম অভিজ্ঞতা: ভোরে উল্লুকের বনে, সন্ধ্যায় হাওরে। জেলাটি প্রধান পর্যটন পথের কিছুটা বাইরে, তাই এখানকার বনে লাউয়াছড়ার মতো ভিড় নেই, আর মাজার-আখড়াগুলো অঞ্চলের বাইরে খুব কম পরিচিত।
ইতিহাস ও মানুষ
চতুর্দশ শতকের আগে দক্ষিণের টিলাভূমি ছিল তুঙ্গাচল নামের এক ছোট রাজ্য, যার রাজধানী ছিল আজকের চুনারুঘাট উপজেলায়। বেশির ভাগ বিবরণ অনুযায়ী ১৩০৪ সালে, ঐতিহ্য মতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নির্দেশে, সৈয়দ নাসিরউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল যোদ্ধা এর শেষ রাজা আচক নারায়ণকে পরাজিত করেন, আর অঞ্চলটির নাম হয় তরফ। নাসিরউদ্দিন সেখানে থেকে যান তরফের প্রথম মুসলিম শাসক হিসেবে। প্রচলিত মত অনুযায়ী তরফের সৈয়দ জমিদার বংশের সৈয়দ হাবিব উল্লাহর পত্তন করা হাবিবগঞ্জ থেকেই এসেছে হবিগঞ্জ নাম।
বানিয়াচং ছিল জমিদার আনোয়ার খানের কেন্দ্র; মোগলদের বিরুদ্ধে তিনি বারো ভূঁইয়াদের নেতা মুসা খানের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন, আর তাঁর প্রতিরোধ ও ১৬১১ সালে আত্মসমর্পণের বিবরণ আছে মোগল ইতিহাসগ্রন্থ বাহারিস্তান-ই-গায়বিতে। ব্রিটিশ আমলে ১৮৭৪ সাল থেকে হবিগঞ্জ ছিল সিলেট জেলার একটি মহকুমা (এক বিবরণে মহকুমা গঠনের সাল ১৮৬৭), দক্ষিণের টিলা সাফ করে গড়ে ওঠে চা-বাগান; ভারতের অন্য অঞ্চল থেকে আনা শ্রমিকদের উত্তরসূরিরা আজও বাগানগুলোতে থাকেন। জেলা হিসেবে হবিগঞ্জের যাত্রা ১ মার্চ ১৯৮৪।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গোড়ার দিকেই এ জেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৪ এপ্রিল মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের বাংলোয়, যেখানে তখন দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদর দপ্তর, কর্নেল এম এ জি ওসমানী সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ বাঙালি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন; সেখানেই ঠিক হয় প্রতিরোধযুদ্ধ কীভাবে সংগঠিত ও পরিচালিত হবে। এরপর জেলাজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে; ১৬ নভেম্বর আজমিরীগঞ্জে এক সংঘর্ষে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি।
জনসংখ্যার বেশির ভাগ বাঙালি মুসলমান, হিন্দু প্রায় ১৬ শতাংশ (২০২২ সালের জনশুমারি)। চা-বাগানে থাকেন মুন্ডা, সাঁওতাল, ওরাওঁসহ নানা জনগোষ্ঠী, সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গার বনে ও আশপাশে আছে ত্রিপুরাদের গ্রাম, আছেন খাসিয়া ও মণিপুরিরাও। এ জেলার পরিচিত মানুষদের মধ্যে আছেন স্বদেশি আন্দোলনের নেতা বিপিনচন্দ্র পাল, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ, আর ১৮৯৪ সালে বানিয়াচংয়ে জন্ম নেওয়া রামনাথ বিশ্বাস, যিনি সাইকেলে পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরে বাংলায় প্রায় ৪০টি বই লিখেছেন।
সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গা
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান
চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ে ২৪৩ হেক্টরের পাহাড়ি বন সাতছড়ি। ২০০৫ সালে এটি জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়। নামের অর্থ সাতটি ছড়া, বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়াগুলোর জন্য। আশপাশে নয়টি চা-বাগান, যার মধ্যে পশ্চিমে সাতছড়ি আর পূর্বে চাকলাপুঞ্জি, আর ত্রিপুরা সীমান্তও কাছেই।
আয়তনের তুলনায় এখানে প্রাণের সমারোহ অনেক। প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি নথিভুক্ত, সঙ্গে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ আর ১৯০ প্রজাতির প্রজাপতি। এখানে থাকে উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, চশমাপরা হনুমান ও উল্টোলেজি বানর, আর পাখির তালিকা বনমোরগ, লালমাথা কুচকুচি থেকে উদয়ী পাকরা ধনেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। উদ্যানের ভেতরে আছে একটি ত্রিপুরা গ্রাম; ২০০৭ সালের হিসাবে সেখানে প্রায় দুই ডজন পরিবারের বাস।
- কেন যাবেন: ঢাকা থেকে সহজে পৌঁছানো যায় এমন উল্লুকের বনগুলোর একটি; যানজটভেদে সড়কপথে মোটামুটি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা হাতে রাখুন।
- কখন যাবেন: শুকনো ট্রেইল আর পাখির জন্য নভেম্বর থেকে মার্চ; বৃষ্টির পরের সবুজ বনের জন্য সেপ্টেম্বর-অক্টোবর।
- কত সময়: একটি সকাল। ছোট, মাঝারি ও লম্বা তিন রকম চিহ্নিত ট্রেইল আছে, আর আছে গাছপালার মাথা ছাড়িয়ে ওঠা একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, যেখান থেকে ভোরে প্রায়ই কুয়াশা ঝুলে থাকতে দেখা যায়।
- কীভাবে যাবেন: উদ্যানটি পুরোনো ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ওপর, যা মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ভেতর দিয়ে গেছে। শায়েস্তাগঞ্জ, মাধবপুর বা চুনারুঘাট থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া নিন; রওনা দেওয়ার আগেই ভাড়া, অপেক্ষার সময় আর ফেরার কথা ঠিক করে নিন।
- সাবধান: ছুটির দিনে ফটকের কাছে ভিড় আর উচ্চ স্বরের দল, বর্ষায় জোঁক, আর রাতে সাতছড়ি সড়ক ব্যবহার না করার পরামর্শ (নিরাপত্তা অংশ দেখুন)।
উদ্যানের অফিস থেকে গাইড নিন আর যত ভোরে সম্ভব হাঁটা শুরু করুন। উল্লুক আর হনুমান সে সপ্তাহে কোন ফলের গাছে আসছে, গাইডরা তা জানেন; তাঁদের সঙ্গে নিঃশব্দে দুই-তিন ঘণ্টার হাঁটায় একা ঘোরার চেয়ে অনেক বেশি দেখা যায়।

রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
চুনারুঘাটের আরও ভেতরে, ত্রিপুরা সীমান্ত ঘেঁষে রেমা-কালেঙ্গা আয়তনে বড়, প্রকৃতিতেও বুনো: রেমা, কালেঙ্গা, ছনবাড়ি ও রশিদপুর, এই চার অংশ মিলিয়ে প্রায় ১,৭৯৫ হেক্টর টিলার বন। ১৯৮২ সালে অভয়ারণ্য হিসেবে যাত্রা শুরু, ১৯৯৬ সালে আয়তন বাড়ানো হয়; বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল একে গুরুত্বপূর্ণ পাখি এলাকার তালিকায় রেখেছে। জরিপে এখানে ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৭ প্রজাতির উভচর আর ৬৩৮ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে পাঁচ প্রজাতির কাঠবিড়ালি। ১৯৭১ সালের পর এখানে বাঘের নিশ্চিত দেখা মেলেনি, তবে মাঝে মাঝে চিতাবাঘের খবর পাওয়া যায়, হয়তো সীমান্তের ওপারের বন থেকে আসা।
এখানে তিনটি চিহ্নিত ট্রেইল, হাঁটতে লাগে মোটামুটি আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টা ও তিন ঘণ্টা। গাছের মাথা ছাড়িয়ে উঠেছে একটি উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, পাশেই পাখি ও বন্যপ্রাণীর পানির জন্য খোঁড়া আঁকাবাঁকা ছোট একটি লেক। বনের ভেতরে ও আশপাশে ত্রিপুরা, সাঁওতাল, তেলেগু ও ওরাওঁ জনগোষ্ঠীর বাস।
- কেন যাবেন: আশপাশে প্রায় কোনো ভিড় ছাড়াই সত্যিকারের বনে পুরো একটি দিন।
- কখন যাবেন: নভেম্বর থেকে মার্চ।
- কত সময়: পুরো একটি দিন, অথবা কাছাকাছি রাত কাটিয়ে ভোরে শুরু।
- কীভাবে যাবেন: ২০২৫ সালে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে কালেঙ্গা পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া ছিল প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা; শ্রীমঙ্গল থেকে জিপ ভাড়া প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। হাতে যথেষ্ট সময় রাখুন, আর রওনার আগেই ফেরার ব্যবস্থা পাকা করুন।
- সাবধান: সীমান্ত কাছেই, তাই চিহ্নিত ট্রেইলের বাইরে যাবেন না, আর লম্বা হাঁটার জন্য স্থানীয় গাইড সঙ্গে নিন।

চা-বাগান ও তেলিয়াপাড়া
হবিগঞ্জে প্রায় দুই ডজন চা-বাগান, মোট আয়তন মোটামুটি ১৫,৭০০ হেক্টর, যার অনেকগুলোই চুনারুঘাটে। একসময় চুনারুঘাটের বাগানের চা যেত রেলে: চা পরিবহনের জন্য ১৯২৯ সালে চালু হওয়া শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ত্রিপুরা সীমান্তের বাল্লা পর্যন্ত শাখা লাইনে চুনারুঘাট, আমু রোড ও আসামপাড়া স্টেশন থেকে ২২টি বাগানের চা যেত। শেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চলে ২০০৩ সালে।
বাগানগুলো চালু খামার, শ্রমিক পরিবারগুলোর ঘরবাড়িও এখানেই। বাগানের ভেতর দিয়ে যাওয়া সাধারণ রাস্তায় হাঁটুন, রাস্তার পাশের দোকানে এক কাপ চা খান; বসন্তে গেলে শ্রমিক লাইনে রঙের হোলি উৎসবও দেখতে পারেন। কারখানা চত্বরে বা কারও বাড়িতে ঢোকার আগে, কিংবা কাজের মধ্যে কারও ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন। একটি চা-বাগান কীভাবে চলে, তা জানতে পড়ুন চা-বাগান অধ্যায়।
ইতিহাসের জন্য সবচেয়ে পরিচিত বাগান তেলিয়াপাড়া, মাধবপুরের চা-বাগানে ঢাকা টিলাময় এলাকায়। ১৯৭১ সালের এপ্রিলে এর ব্যবস্থাপকের বাংলো ছিল দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদর দপ্তর। ৪ এপ্রিল সেখানকার বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম যুদ্ধাঞ্চলগুলোর দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয় অধিনায়কদের মধ্যে, আর বাংলোর কাছেই বাগানের ভেতরে এখন দাঁড়িয়ে আছে তেলিয়াপাড়া মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ। তেলিয়াপাড়া আর সাতছড়ি একই টিলা-অঞ্চলে, তাই এক দিনেই দুটো ঘুরে আসা যায়।
এ অঞ্চলের দর্শনীয় স্থানের তালিকায় প্রায়ই থাকা মাধবপুর লেক আসলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় নয়। কোন মাধবপুরে যাচ্ছেন, চালককে স্পষ্ট করে বলুন; দেখুন মাধবপুর লেক।

মাজার, মসজিদ ও আখড়া
হবিগঞ্জের ধর্মীয় স্থানগুলো সিলেট শহরের বড় মাজারগুলোর চেয়ে নিরিবিলি। শালীন পোশাক পরুন, অন্যরা যেখানে জুতা খোলেন সেখানে আপনিও খুলুন, নিচু স্বরে কথা বলুন, আর প্রার্থনারত কারও ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন; বিস্তারিত আদবকায়দা পাবেন মাজার, মন্দির ও পবিত্র স্থান অধ্যায়ে।
মুড়ারবন্দ দরবার শরীফ
ঐতিহ্য অনুযায়ী বাগদাদে জন্ম নেওয়া সাধক সৈয়দ নাসিরউদ্দিন (রহ.) শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে সিলেট অভিযানে যোগ দেন, তাঁর নির্দেশে বারোজন সঙ্গী নিয়ে তরফের রাজার বিরুদ্ধে অভিযান চালান এবং পরে বিজিত অঞ্চলের শাসনভার নেন। তাঁর মাজার চুনারুঘাট উপজেলার মুড়ারবন্দে; সেখানে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত একটি হুজরাখানাও টিকে আছে। তরফের পত্তনের কাহিনির সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে এই মাজার।
শংকরপাশা শাহী মসজিদ
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নে, উচাইল বাজারের কাছে উচাইল শংকরপাশা গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে সুলতানি আমলের শংকরপাশা শাহী মসজিদ। বাংলাপিডিয়ার মতে এটি নির্মিত হয় ১৪৯৪ থেকে ১৪৯৯ সালের মধ্যে, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে। বাংলাপিডিয়া নির্মাতার নাম বলে না, তবে স্থানীয় প্রচলিত মত ও জাতীয় পর্যটন বোর্ডের তথ্যমতে এটি নির্মাণ করেন ওই সুলতানের কর্মকর্তা মজলিস আমিন, যাঁর মাজার মসজিদের পাশেই। বহু বছর মসজিদটি ঘন ঝোপজঙ্গলে প্রায় ঢাকা পড়ে ছিল, সম্প্রতি এটি নতুন করে মানুষের নজরে এসেছে।
বিথঙ্গল আখড়া
বানিয়াচং থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, হবিগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বিথঙ্গল গ্রামে হাওরের কিনারায় বিথঙ্গল আখড়া। এটি বৈষ্ণবদের মঠ ও তীর্থস্থান; স্থানীয়দের হিসাবে বয়স প্রায় সাড়ে চার শ বছর। এখানে সাধুদের থাকার জন্য শতাধিক ছোট কক্ষ আছে, আর আখড়ার সম্পদের মধ্যে আছে পুরোনো শ্বেতপাথরের চৌকি।
বর্ষায় সেখানে যাওয়ার চিরাচরিত পথ হাওর পাড়ি দিয়ে নৌকায়, আর আখড়ার মতোই সেই জলযাত্রাও মনে রাখার মতো; শুকনো মাসে কোন রাস্তা খোলা, বানিয়াচংয়ে জিজ্ঞেস করে নিন। যেকোনো মন্দিরের মতোই আচরণ করুন: প্রবেশপথে জুতা খুলুন, শালীন পোশাক পরুন, আর অনুমতি ছাড়া সাধু বা ভেতরের কক্ষের ছবি তুলবেন না।

বানিয়াচং, হাওর ও কম পরিচিত জায়গা
বানিয়াচং
বানিয়াচংকে প্রায়ই এশিয়ার সবচেয়ে বড় গ্রাম বলা হয়। বাংলাপিডিয়াও দাবিটির উল্লেখ করে, উপজেলার ভুক্তিতে সরাসরি আর গ্রামটির ভুক্তিতে স্থানীয়দের গর্ব হিসেবে; তবে এটি মাপজোখ করা র্যাংকিং নয়, স্থানীয় দাবি। এর বিশালতা অবশ্য মিথ্যা নয়: বাংলাপিডিয়ার হিসাবে প্রায় এক লাখ মানুষের এই গ্রাম চারটি ইউনিয়ন পরিষদে ভাগ করা। বাংলাপিডিয়ার ব্যাখ্যা, এর কারণ এখানকার ভূপ্রকৃতি: কৃষক আর জেলেরা হাওরের পাশের প্রতিটি উঁচু জমিতে বসতি গড়েছেন, আর মৌসুমি চাষিরা শীতের খেতের কাছে গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট উপগ্রাম।
ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবেও বানিয়াচংয়ের ইতিহাস দীর্ঘ। সপ্তদশ শতকের শুরুতে আনোয়ার খান এখান থেকে শাসন করতেন, আর বাংলাপিডিয়া জানায়, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় সিলেটে জমিদার উপাধিধারী ভূস্বামী ছিলেন কেবল একজন, বানিয়াচং পরগনার জমিদার। পুরানবাগে টিকে আছে ১৭৩৭-৩৮ সালের পুরোনো রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, আছে বিবির দরগাহ মসজিদের মতো পুরোনো মসজিদ। স্থানীয় ঐতিহ্যে কমলা নামের এক রানির নামে পরিচিত বিশাল সাগরদিঘি এখানকার সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শনগুলোর একটি।
উত্তরের হাওর
বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ আর লাখাই ঘিরে জমি নেমে গেছে একের পর এক হাওরে। পুরোনো বানিয়াচং পরগনার বড় হাওরগুলোর মধ্যে বাংলাপিডিয়া সোনা, জলডুবা ও মাকালকান্দির নাম করে, আর জানায়, শীতে এসব হাওরে চাষাবাদ আর মাছ ধরা চলত, কিন্তু বর্ষায় সেখানে বসবাস প্রায় অসম্ভব ছিল। জুন থেকে অক্টোবর সুনামগঞ্জের মতোই এখানকার গ্রামগুলো পানির ওপর জেগে থাকে, অনেক রাস্তার কাজ করে নৌকা।
টাঙ্গুয়ারে যে হাউসবোট-ব্যবসা গড়ে উঠেছিল, এসব হাওরে তা কখনো হয়নি; টাঙ্গুয়ারের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অবশ্য ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌকা নিষিদ্ধ। এই নিরিবিলিই এখানকার আকর্ষণ। স্থানীয় মাঝিসহ একটি দেশি নৌকা ভাড়া নিন, বিকেলের দিকে বেরোন; হাউসবোট বা মাইকের শব্দ ছাড়াই দেখবেন মাছ ধরা আর ভিটার ওপরের গ্রামজীবন। শীতে বাকি থাকা বিলগুলোতে আসে পরিযায়ী হাঁস।
লক্ষ্মীবাওর জলাবন
বানিয়াচং উপজেলাতেই আছে মিঠাপানির জলাবন লক্ষ্মীবাওর; ২০২০ সালে একটি বাংলা দৈনিকের প্রতিবেদনে একে রাতারগুলের চেয়েও বড় ও পুরোনো বলা হয়েছে, যদিও এখানে পর্যটক আসেন কমই। বর্ষায় স্থানীয় মাঝির সঙ্গে যান, আর রাতারগুলের মতোই আচরণ করুন: নিঃশব্দে, কিছু ফেলে না এসে।
মহাসড়কের শহর, গ্যাসক্ষেত্র ও জেলা শহর
প্রধান ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক (এন২) জেলা পেরিয়েছে মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলার ভেতর দিয়ে। রেল জংশন শায়েস্তাগঞ্জই যাতায়াতের মূল কেন্দ্র, এখানে এসে মেলে বাস, সিএনজি অটোরিকশা আর ট্রেন। উনিশ শতকে এক স্থানীয় জমিদার সোনাই নদীর তীরে যে হাট বসান, তাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে মাধবপুর।
এ জেলার মাটির নিচে আছে দেশের প্রধান কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র। বাহুবলের রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৬০ সালে; মাধবপুরের হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র ১৯৬৩ সালে, উৎপাদন শুরু ১৯৬৮ সালে; আর নবীগঞ্জের বিবিয়ানা ১৯৯৮ সালে, উৎপাদন শুরু ২০০৭ সালে। মাধবপুরেই আছে শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র। এগুলো শিল্প স্থাপনা, বেড়ানোর জায়গা নয়।
খোয়াইয়ের তীরের হবিগঞ্জ শহর নিজে দর্শনীয় স্থানের চেয়ে বেশি এক ব্যস্ত জেলা সদর, তবে কয়েকটি নিদর্শন আছে: কবি সৈয়দ সুলতানের স্মৃতিবিজড়িত সুলতানশী হাবেলি, মশাজানে সৈয়দ গাউসের পুরোনো দিঘি, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও কালীবাড়ি, আর ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত বৃন্দাবন সরকারি কলেজ।

খাবার ও থাকার জায়গা
হবিগঞ্জের খাবার বৃহত্তর সিলেটের মতোই: ভাত, মিঠাপানির মাছ, ভর্তা আর কড়া চা; কোন কোন পদ খুঁজবেন, তা জানতে পড়ুন খাবার ও চা। স্থানীয়দের গর্ব মাছ। বাংলাপিডিয়া ধানের সঙ্গে মাছকেও বানিয়াচং উপজেলার প্রধান রপ্তানিপণ্যের তালিকায় রাখে; শুকনো মৌসুমে বিলে মাছ ধরার সময় বাজারগুলো হাওরের মাছে ভরে যায়।
বেশির ভাগ ভ্রমণকারী খাওয়াদাওয়া সারেন হবিগঞ্জ শহরে কিংবা শায়েস্তাগঞ্জ, মাধবপুর ও বাহুবলে মহাসড়কের পাশের সাধারণ রেস্তোরাঁয়। সাতছড়ি বা রেমা-কালেঙ্গার ভেতরে কেনার মতো তেমন কিছু নেই, তাই পানি আর হালকা খাবার সঙ্গে নিন, মোড়কগুলো ফিরিয়ে আনুন।
থাকার ব্যবস্থা সীমিত, বেশির ভাগই সাধারণ মানের; সবচেয়ে বেশি বিকল্প হবিগঞ্জ শহর ও শায়েস্তাগঞ্জের আশপাশে। শ্রীমঙ্গল থেকে জিপে রেমা-কালেঙ্গা যাওয়া যায়, তাই কেউ কেউ সেখানে থেকে দিনে দিনে ঘুরে যান। এখনকার বিকল্পগুলো দেখুন হবিগঞ্জে থাকার জায়গা এবং শ্রীমঙ্গলে থাকার জায়গা পাতায়।
যাতায়াত
সড়কপথে: ঢাকা–সিলেট রুটের বাস মহাসড়ক ধরে জেলার ভেতর দিয়েই যায়, তাই কোথায় নামবেন সুপারভাইজারকে আগেই বলে রাখুন। ২০২৫ সালে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বাসে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত ভাড়া ছিল প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, আর সাতছড়ি পৌঁছাতে যানজটভেদে মোটামুটি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা হাতে রাখুন।
ট্রেনে: ঢাকা–সিলেট মূল রেলপথের শায়েস্তাগঞ্জ জংশনই জেলার প্রধান স্টেশন। শায়েস্তাগঞ্জে থামা রাতের উপবন এক্সপ্রেস একটি বিকল্প; ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন চলে, তাই কোন দিন বন্ধ তা জেনে নিন। হবিগঞ্জ শহরে যাওয়ার পুরোনো শাখা লাইনে ২০০৩ সালে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়, পরে লাইনটি তুলেও ফেলা হয়েছে, তাই শায়েস্তাগঞ্জ থেকে বাকি পথ যেতে হয় সড়কে। যাত্রার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ সময়সূচি দেখে নিন।
ঘোরাঘুরি: চলাচলের প্রধান ভরসা সিএনজি অটোরিকশা, শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ শহর ও চুনারুঘাট থেকে একক যাত্রা বা সারা দিনের জন্য ভাড়া নেওয়া যায়; রওনার আগে ভাড়া, অপেক্ষার সময় আর ফেরার কথা ঠিক করে নিন। হাওরের জন্য বর্ষায় বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের ঘাটে খোঁজ নিন, আর পুরো যাত্রার ভাড়া আগেই চূড়ান্ত করুন।
পুরো বিভাগের বাস-ট্রেনের খুঁটিনাটি পাবেন সিলেটে যাওয়া ও বিভাগজুড়ে ঘোরাফেরা অধ্যায়ে, আর পূর্ব দিকে এগোতে চাইলে দেখুন শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার।
একটি প্রস্তাবিত ভ্রমণপথ
তাড়াহুড়ো না করে হবিগঞ্জের সেরা জায়গাগুলো দেখতে তিন দিনই যথেষ্ট:
- প্রথম দিন, বন ও চা: রাতের ট্রেন বা ভোরের বাসে শায়েস্তাগঞ্জ, সেখান থেকে সোজা সাতছড়িতে গাইডের সঙ্গে সকালের হাঁটা। তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ ঘুরে দুপুরটা কাটান চুনারুঘাটের চা-বাগানে; রাতে থাকুন হবিগঞ্জ শহর বা শায়েস্তাগঞ্জে।
- দ্বিতীয় দিন, রেমা-কালেঙ্গা ও তরফ: ভোরে কালেঙ্গার পথে রওনা দিন, স্থানীয় গাইডের সঙ্গে লম্বা ট্রেইলে হাঁটুন, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠুন। এরপর চুনারুঘাটের মুড়ারবন্দ দরবার শরীফ ঘুরে হয় হবিগঞ্জে ফিরুন, নয়তো রাত কাটাতে চলে যান শ্রীমঙ্গলে।
- তৃতীয় দিন, বানিয়াচং ও হাওর: উচাইলের শংকরপাশা মসজিদ দেখে বানিয়াচংয়ে যান সাগরদিঘি আর রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখতে। বর্ষায় নৌকায় হাওর পাড়ি দিয়ে বিথঙ্গল আখড়া ঘুরে সন্ধ্যার আগেই ফিরুন; শুকনো মৌসুমে রাস্তার খোঁজ নিন স্থানীয়দের কাছে। ট্রেন বা বাস ধরতে ফিরে আসুন শায়েস্তাগঞ্জে।
হাতে এক দিন থাকলে সকালে সাতছড়ি ও তেলিয়াপাড়া, বিকেলে একটি চা-বাগান। আরও সময় থাকলে লাউয়াছড়া দেখতে চলে যান শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইক্কা বিল আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য বন্ধ করা হয়, তাই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে দর্শনার্থী ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে কি না জেনে নিন।
নিরাপত্তা ও আদবকায়দা
- সীমান্ত: সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গা ত্রিপুরা সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। গাইডের সঙ্গে চিহ্নিত ট্রেইলে থাকুন, সীমান্তরেখার কাছে যাবেন না বা পার হবেন না, আর ছবিসহ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
- রাতের সাতছড়ি সড়ক: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ রাত ১০টার পর সাতছড়ির ভেতর দিয়ে যাওয়া পুরোনো মহাসড়কে চলাচল না করতে বলে, পরে কর্মকর্তারা জানান এটি নিষেধাজ্ঞা নয়, পরামর্শ; বন ও চা-বাগানের ভেতর দিয়ে যাওয়া ১৩ কিলোমিটার অংশটি নির্জন, পাহাড়ি এবং সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। অন্ধকার নামার আগেই এ পথ পেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন।
- পানি: শান্ত আবহাওয়ায় হাওরভ্রমণ আনন্দের, কিন্তু বর্ষার বাতাসে সত্যিকারের ঢেউ ওঠে। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া উঠবেন না, অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া নৌকা এড়িয়ে চলুন, আকাশ কালো হলে ফিরে আসুন, আর স্রোত আছে এমন জায়গায় সাঁতার কাটবেন না।
- বন: বন্ধ জুতা পরুন, পানি সঙ্গে রাখুন, বর্ষায় হাঁটার পর জোঁক আছে কি না দেখে নিন, আর বানরকে কখনো খাবার দেবেন না বা কাছে যাবেন না।
- চা-বাগান ও গ্রাম: শ্রমিক লাইনে বা কারও বাড়িতে ঢোকার আগে আর মানুষের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন, পোশাক রাখুন শালীন।
- মাজার ও আখড়া: যেখানে বলা হয় সেখানে জুতা খুলুন, নামাজ বা কীর্তনের সময় চুপ থাকুন, আর ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
আরও জানতে পড়ুন দায়িত্বশীল ভ্রমণ, প্রয়োজনীয় তথ্য এবং হাওর, বন ও বন্যপ্রাণী অধ্যায়।
তথ্যসূত্র
এই গাইডের তথ্য অক্টোবর ২০২৬-এ নিচের সূত্রগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলায়, তাই খোলার সময়, ভাড়া ও নিয়মকানুন স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
- Banglapedia: Habiganj District (en.banglapedia.org)
- Wikipedia: Habiganj District (en.wikipedia.org)
- Wikipedia (Bangla): হবিগঞ্জ জেলা (bn.wikipedia.org)
- Banglapedia: Baniachang (en.banglapedia.org)
- Banglapedia: Baniachang Upazila (en.banglapedia.org)
- Banglapedia: Shah Syed Nasiruddin (en.banglapedia.org)
- Wikipedia: Chunarughat Upazila (en.wikipedia.org)
- Wikipedia: Madhabpur Upazila (en.wikipedia.org)
- Wikipedia: Habiganj (en.wikipedia.org)
- Bangladesh Tourism Board (Beautiful Bangladesh): Shankarpasha Shahi Masjid (beautifulbangladesh.gov.bd)
- Wikipedia: Satchari National Park (en.wikipedia.org)
- The Business Standard: Satchhari National Park: home to 200 species of birds set to get even bigger (June 2022) (tbsnews.net)
- The Daily Star: Shatchori morning (September 2016) (thedailystar.net)
- Prothom Alo: Police prohibit movement on 13-km stretch of road in Habiganj at night, but why? (February 2025) (en.prothomalo.com)
- Wikipedia: Rema-Kalenga Wildlife Sanctuary (en.wikipedia.org)
- UNB: Rema-Kalenga Wildlife Sanctuary in Habiganj: a comprehensive travel guide (September 2025) (unb.com.bd)
- Jagonews24: প্রাচীন তীর্থস্থান বিথঙ্গল আখড়ায় একদিন (June 2021) (jagonews24.com)
- bdnews24.com (Bangla): Ramnath Biswas memorial library signboard at his Baniachong home (November 2022) (bangla.bdnews24.com)
- Freshwater Biodiversity of Bangladesh: Swamp forests (Ratargul and others) (freshwaterbiodiversity.org.bd)
- Wikipedia: Ratargul Swamp Forest (notes on Lokkhi Baor and other swamp forests) (en.wikipedia.org)
- Banglapedia: Shankarpasha Mosque (en.banglapedia.org)
- The Financial Express: Centuries-old Shankar Pasha mosque still attracts visitors (July 2024) (thefinancialexpress.com.bd)
- Banglapedia: Anwar Khan (en.banglapedia.org)
- Banglapedia: Madhabpur Upazila (en.banglapedia.org)
- Prothom Alo English: Govt wants to preserve historic Teliapara bungalow, tea workers object (September 2025) (en.prothomalo.com)
- Wikipedia: Habiganj Gas Field (en.wikipedia.org)
- Wikipedia: Rashidpur Gas Field (en.wikipedia.org)
- Chevron Bangladesh: Bibiyana (bangladesh.chevron.com)
- Wikipedia: N2 (Bangladesh) (en.wikipedia.org)
- Wikipedia: Fazle Hasan Abed (en.wikipedia.org)
- Wikipedia: Upaban Express (en.wikipedia.org)
- The Daily Star: Baikka Beel's silent collapse (7 February 2026) (thedailystar.net)
- Dhaka Tribune: Houseboat, tourist vessels banned in Tanguar Haor's ecological critical area (3 August 2026) (dhakatribune.com)